You are here
Home > প্রতিক্রিয়া > বিএনপির জন্য শাপে বর হল খালেদার জেল

বিএনপির জন্য শাপে বর হল খালেদার জেল

খালেদার আবেদন খারিজ, পরবর্তী শুনানি ২৫ এপ্রিল

দেশজুড়ে এখন একটি আলোচনাই সবার মুখে মুখে ঘুরছে। আর সেটি হল জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক জিয়া দণ্ডিত হয়েছেন। বেগম জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ এই রায়ে আপাতত: উল্লসিত হলেও, অনেক নেতাই মনে করছে, এই রায় আওয়ামী লীগের জন্য বুমেরাং হতে পারে। আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা আশঙ্কা করছেন, পুরো ঘটনায় হীতে বিপরীত ফল হতে পারে।

বেগম খালেদা জিয়া মামলার রায় এবং কারাগারে যাওয়াটা অত্যন্ত ‘বিচক্ষণতার সঙ্গে মোকাবেলা’ করছেন বলে মনে করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ‘বাংলা ইনসাইডার’কে বলেছেন, ‘বেগম জিয়া পুরো পরিস্থিতি রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় হ্যান্ডেল করছেন। এতে তার জনপ্রিয়তা বাড়বে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, ‘বেগম জিয়া কারান্তরীন হওয়ায় সাধারণ মানুষের তাঁর প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয়েছে। এটা বিএনপির জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট হতে পারে।’

বাসদের নেতা খালেকুজ্জামান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ যে মাস্টার প্লান করে এগুচ্ছে, তা আওয়ামী লীগকেই ঘায়েল করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতির সংস্কৃতি হলো, জেলে গেলে নেতার জনপ্রিয়তা বাড়ে।’ বাসদের এই নেতা মনে করেন, ‘শেষ পর্যন্ত যদি বেগম জিয়া নির্বাচনের অযোগ্য না হন, তাহলে বিএনপি অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যাবে।’ আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, ‘বেগম জিয়া যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করতে পারেন তাহলে জেল থেকে বেরোনো বেগম জিয়া হবে বিএনপির জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট।’ আওয়ামী লীগের ওই নেতা মনে করেন, ‘বিএনপি সম্ভবত নির্বাচনে যাবে এবং শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচনে যাবে। এই নির্বাচনে খালেদার জেলই এক বড় আবেগ ও ইস্যু হতে পারে।’

প্রবীণ নেতা পঙ্কজ ভট্টচার্য বলেছেন, ‘জেলে নিয়ে, মামলা করে কোনো নেতার রাজনীতি ধ্বংস করা যায় না। এটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেই প্রমাণিত। শেখ মুজিবুর রহমান ‘বঙ্গবন্ধু’ এবং জাতির পিতা হয়েছিলেন কারাবরণ করেই।’ তিনি মনে করেন, ‘খালেদার জেল বরং বিএনপির জন্য সাপে বর হয়েছে। এর মাধ্যমে বেগম জিয়ার পাপমোচন ঘটল।’ আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মনে করেন, ‘নির্বাচনের আগেই উচ্চতর আদালত থেকে বেগম জিয়ার এই রায় চূড়ান্ত করতে হবে। বেগম জিয়া যদি আগামী সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য না হন, তাহলে এই রায় আওয়ামী লীগের জন্য এক বড় মাথাব্যাথার কারণ হতে পারে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অবশ্য বলেছেন, ‘এই রায়ের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।‘ তিনি বলেন, আমরাও চাই বিএনপি বেগম জিয়ার নেতৃত্বে নির্বাচন করুক।’

Top