You are here
Home > জাতীয় > জার্মান গবেষণায় ‘স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায়’ বাংলাদেশ

জার্মান গবেষণায় ‘স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায়’ বাংলাদেশ

জার্মান গবেষণায় 'স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায়' বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং সেখানে এখন গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদন্ড পর্যন্ত মানা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছে একটি জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

২২শে মার্চ বৃহস্পতিবার এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ওই তালিকায় নতুন করে পাঁচটি দেশ একনায়কতান্ত্রিক দেশের তালিকা টুকেছে। তার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

বেরটেলসমান স্টিফটুং নিজেদের ওয়েবসাইটে ‘ট্রান্সফরমেশন ইনডেক্স বিটিআই’ নামের এই সূচক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশ্লেষণ করে আসছে এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান। চলতি বছর ১২৯টি উন্নয়নশীল ও রূপান্তরিত দেশের ওপর সমীক্ষা চালানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪০টি দেশের সরকার দুই বছর ধরে আইনের শাসনকে ‘বন্দী’ করে রেখেছে। অন্যদিকে ৫০টি দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। সারা বিশ্বেই গণতন্ত্র এখন চাপের মুখে রয়েছে।

চলতি বছরের সূচক অনুযায়ী, ১২৯টি দেশের মধ্যে ৫৮টি দেশে একনায়কতন্ত্র জারি রয়েছে। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫৫। অন্যদিকে, এ বছর গণতান্ত্রিক দেশের সংখ্যা ৭১। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৭৪।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর মোট ১৩টি দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও আছে মোজাম্বিক, তুরস্ক ও ইয়েমেনের মতো দেশ। আর এই ১৩টি দেশের মধ্যে ৫টি দেশে গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদণ্ডও পূরণ হচ্ছে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া ও উগান্ডা। এই দেশগুলোতে বছরপরিক্রমায় গণতন্ত্রের ভিত ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে এই দেশগুলোকে ‘একনায়কতান্ত্রিক শাসনে’ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বেশির ভাগ সময় এসব দেশে নির্বাচনের মান দুর্বল থাকায় ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এই সমীক্ষা চালানো হয় যেসব দেশের ওপর, তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে পাঁচটি দেশের কথা—বাংলাদেশ, লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া এবং উগান্ডা।

রিপোর্টে বলা হচ্ছে, এই পাঁচটি দেশ এখন আর গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদন্ড পর্যন্ত মানছে না। এসব দেশে বহু বছর ধরেই গণতন্ত্রকে ক্ষুন্ন করা হচ্ছিল। এসব দেশের ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণেই এটা ঘটেছে বলে মন্তব্য করা হয় রিপোর্টে।

“এই পাঁচটি নতুন স্বৈরতান্ত্রিক দেশ এমন একটা পর্যায় অতিক্রম করেছে, যেদিকে যাচ্ছে আরও কিছু ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের দেশ – হন্ডুরাস, হাঙ্গেরি, মলডোভা, নিজার, ফিলিপাইন এবং তুরস্ক।”

তবে রিপোর্টে কিছু কিছু দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রশংসা করা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, মরিশাস এবং উরুগুয়ে।

২০১৬ সালের রিপোর্টে বার্কিনা ফাসো এবং শ্রীলংকাকে মধ্যম মাত্রার স্বৈরতন্ত্র বলে বর্ণনা করা হয়েছিল। এই দুটি দেশকে এবারের রিপোর্টে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র বলা হয়েছে।

Top