You are here
Home > জাতীয় > রায়ের দিন মাঠে থাকবে বিএনপি, সতর্ক আওয়ামী লীগ

রায়ের দিন মাঠে থাকবে বিএনপি, সতর্ক আওয়ামী লীগ

বিএনপি-আওয়ামী লীগ

নিউজ ডেস্ক: ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা নিয়ে বিএনপিতে অস্থিরতা চলছে। চলছে নানা রকমের প্রস্তুতিও। বেগম খালেদা জিয়া যদি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে যান তাহলে কি করণীয় তা নিয়ে গত কয়েকদিন দলের ভেতর-বাইরে আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে,রায় দেখে কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

তবে রায়ের দিন ঢাকা এবং সারাদেশে রাজপথে অবস্থান থাকবে নেতা-কর্মীদের। এনিয়ে দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও প্রস্তুতি সভা করছেন। এসব বৈঠকের আসল বার্তা হলো ঐক্যবদ্ধ থাকা। যা বেগম জিয়া নির্বাহী কমিটির সভায় জোর দিয়ে বলেছেন।

বেগম খালেদা জিয়া সোমবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে স্থানীয় নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি তাদেরকে সহিংস কর্মসূচিতে না যেতে পরামর্শ দিয়েছেন। ভবিষ্যৎ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ করার দিক-নির্দেশনা দেন তিনি। হজরত শাহজালাল (র.) ও শাহ পরানের (র.) মাজার জিয়ারতের পর সার্কিট হাউসে রাতে দুটি বৈঠক হয়। একটিতে সিলেট মহানগরের ২৫-৩০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। অপরটিতে সিলেট জেলার ২৫-৩০ জন নেতার সঙ্গে কথা বলেন খালেদা জিয়া।

বেগম জিয়া নেতাদের বলেন, সহিংস কর্মসূচিতে আপাতত যাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হলে আপনারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। হুট করে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত যাতে না নেয়া হয় সে বিষয়ে সতর্ক করে দেন হাইকমান্ড। খালেদা জিয়া বলেন,পরিস্থিতি বুঝে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বিভেদ ভুলে সবাই একসঙ্গে মাঠে থেকে কাজ করবেন। মামলা-হামলা জেল এগুলোকে আমি ভয় পাই না। আপনাদের এসব নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। বিগত আন্দোলনে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আমরা বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তিনি সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, পুলিশের এত নির্যাতন গ্রেফতার-ভয়ভীতি উপেক্ষা করে পুরো শহর মানুষে মানুষে সয়লাব হয়ে গেছে।

এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সতর্কতা অবলম্বন করছে। ক্ষমতাসীন দলটির নেতাদের ‘স্ববিরোধী কথাবার্তায়’ অস্থিরতা লক্ষণীয়। প্রথমে রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি দেখে পাল্টা মাঠ দখলের ঘোষণা দিলেও সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে আওয়ামী লীগ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়রের ‘মাঠ দখলের ঘোষণা’ এবং অন্য নেতারা হুঙ্কার; পরবর্তীতে যুবলীগের প্রস্তুতি সভায় ওবায়দুল কাদের ‘রাস্তায় না নামার’ ঘোষণা দেন। ভেতরে ভেতরে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিলেও নেতাকর্মীদের শুধু সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু গতকাল আবার ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি না দিলেও ওই দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সহায়তা করবে।

বেগম খালেদা জিয়ার পরামর্শে রায়ের দিন উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেয়া হলেও সারাদেশে ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। মূলত দিনটিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতোমধ্যেই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নাশকতার আশঙ্কায় সারাদেশে পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের কাছে ‘সতর্ক করে’ বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও বিএনপি যেন সভা-সমাবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর হতে বলা হয়েছে। মামলার রায়ের দিন ঢাকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা বসে কোনো ধরনের মিছিল করা যাবে না বলে ঘোষণা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সব ধরনের ছড়ি বা লাঠি, ছুরি, চাকু বা ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি’। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাকার প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে। বিএনপি নেতাদের কোথাও দাঁড়াতে না দেয়ার ঘোষণা দেয়া হলেও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের অনুগত ১৫ হাজার পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বাসস্ট্যান্ডে লাঠি হাতে অবস্থান নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Top