You are here
Home > জাতীয় > সাজা হলেও রাজপথে সহিংসতা চান না খালেদা

সাজা হলেও রাজপথে সহিংসতা চান না খালেদা

খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্কঃ
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারে খালেদা জিয়ার সাজা হলেও রাস্তায় এখনই কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াতে চায় না বিএনপি। দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হচ্ছে, রায়ের পর দলীয় প্রধানের জেল-জরিমানা যা-ই হোক, এর বিরুদ্ধে দল নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ জানাবে, কর্মসূচি দেবে। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে কোনো ধরনের সহিংসতায় না জড়িয়ে রাজপথে সাহসিকতার সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিএনপির নেতাদের মূল্যায়ন, নির্বাচনের প্রাক্কালে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলার রায় সরকারের দিক থেকে বড় ধরনের প্ররোচনা। এর উদ্দেশ্য বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বেকায়দায় ফেলে নির্বাচনের বাইরে রাখা। যার প্রথম প্রক্রিয়া সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে আগামী সংসদ নির্বাচনের অযোগ্য করা এবং বিএনপিকে সহিংস প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেওয়া। যাতে নির্বাচনের আগে নেতা-কর্মীদের নতুন-পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার করে মাঠছাড়া করার কাজ সহজ হয়। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার অবর্তমানে নির্বাচনে যাওয়া না-যাওয়ার প্রশ্নে বিভেদ সৃষ্টি করা।

মির্জা ফখরুল গতকাল সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকারের তরফ থেকে এই উসকানিমূলক কাজগুলো শুরু হয়েছে, যাতে বিএনপি নির্বাচনে আসতে না পারে। বিএনপি ও বিরোধীকে বাদ দিয়ে একদলীয় নির্বাচন করার নীলনকশা বাস্তবায়নই এর উদ্দেশ্য।

বিএনপির নেতারা বলছেন, ৮ ফেব্রুয়ারি রাজপথে বড় জমায়েতের লক্ষ্যে কয়েক দিন ধরে তাঁরা যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় তা হোঁচট খেয়েছে। তাঁদের দাবি, টেলিভিশনের ফুটেজ দেখে তাঁরা মঙ্গলবারের হামলায় জড়িতদের চিনতে পারেননি। একই পথে খালেদা জিয়া যতবারই আদালতে যাওয়া-আসা করেছেন, প্রতিবারই পুলিশ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে, পিটিয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উল্টো অবস্থানে দেখা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তো কোনো কর্মসূচি দিইনি। অথচ সরকার নিজে অস্থির হয়ে গেছে। এসব করা ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায়ও নেই।’

মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত শুধু ঢাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলটির ১৬৭ জন নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। গ্রেপ্তার এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন।

Top