You are here
Home > আন্তর্জাতিক > পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং

পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং

স্টিফেন হকিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং মারা গেছেন। তার পরিবারের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর জানাচ্ছে।

স্টিফেন হকিংয়ের তিন সন্তান, লুসি, টিম ও রবার্ট ওই বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের প্রিয় বাবা আজ (পাশ্চাত্যের সময়ে মঙ্গলবার) মারা গিয়েছেন। তিনি একজন মহান বিজ্ঞানী ও অসাধারণ মানুষ ছিলেন। তার কাজের মাধ্যমে তিনি অনেকদিন বেঁচে থাকবেন।’

মঙ্গলবার ক্যামব্রিজে নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন স্টিফেন হকিং। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

ইংরেজ এ বিজ্ঞানী দীর্ঘদিন ধরে এমায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (এ.এল.এসের ) রোগে ভুগছিলেন। স্নায়ুর এই রোগের কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফের করতে পারতেন না। তা সত্ত্বেও তিনি সাফল্যের সঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন। ২০০৯ সালে তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ‘লুকাসিয়ান অধ্যাপক’ পদ থেকে অবসর নেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন।

স্টিফেন হকিং-এর কালজয়ী গবেষণার মধ্যে রয়েছে রজার পেনরাজের সঙ্গে সহগবেষণায় সাধারণ আপেক্ষিকতায় সিংগুলারিটি সংক্রান্ত তত্ত্ব ও ব্ল্যাকহোলের কণা প্রবাহ বিকিরণ তত্ত্ব, যার নাম হকিং কণা।

এ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এবং সফল বিজ্ঞানী হিসেবে স্টিফেন হকিং-কে বিবেচনা করা হয়। ২০১৪ সালে তার জীবন নিয়ে ‘থিওরি অফ এভ্রিথিং’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি পায়।

স্টিফেন হকিংয়ের জন্ম ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি। এর ঠিক তিনশ বছর আগে একই দিনে মৃত্যুবরণ করেছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলাই। অবাক করা ব্যাপার হলো, স্টিফেন হকিংয়ের মৃত্যুদিন ১৪ মার্চ, এই একই তারিখে জন্ম নিয়েছিলেন পদার্থবিজ্ঞানের আরেক মহারথী বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন।

হকিংকে বিশ্বের সমকালীন তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণদের একজন, এমনকি আইনস্টাইনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। একপ্রকার মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিকভাবে ভীষণরকম অচল হওয়ার পরও তিনি সম্পূর্ণ সাফল্যের সঙ্গে তার গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছেন।

তত্ত্বীয় কসমোলজি আর কোয়ান্টাম মধ্যাকর্ষ হকিংয়ের প্রধান গবেষণাক্ষেত্র। ষাটের দশকে ক্যামব্রিজের বন্ধু ও সহকর্মী রজার পেনরোজের সঙ্গে মিলে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব থেকে একটি নতুন মডেল তৈরি করেন হকিং। এছাড়াও হকিং কৃষ্ণ গহ্বর বা ব্ল্যাক হোলের ঘটনা দিগন্তের বাইরে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার তত্ত্বের প্রয়োগ করেন।

হকিং ছিলেন রয়াল সোসাইটি অব আর্টসের সম্মানীয় ফেলো এবং পন্টিফিকাল একাডেমি অব সায়েন্সের আজীবন সদস্য।

তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের বহু বিষয়ে তার সফল গবেষণা থাকলেও, এপর্যন্ত তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেননি। কারণ তার তত্ত্বগুলো নোবেল কমিটির স্বীকৃতি পেতে হলে যথেষ্ট পর্যবেক্ষণযোগ্য ড্যাটার প্রয়োজন ছিল।

Top