You are here
Home > ঢাকার খবর > বিএনপির ‘শান্তিপূর্ণ’ মিছিলেও পুলিশের ধাওয়া

বিএনপির ‘শান্তিপূর্ণ’ মিছিলেও পুলিশের ধাওয়া

বিএনপির ‘শান্তিপূর্ণ’মিছিলেও পুলিশের ধাওয়া

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে দলের কর্মীরা। ৯ই ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাজধানীতে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলটি নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়।

ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার বিএনপি নেতাকর্মীদের এ মিছিল ‘শান্তিপূর্ণই’ ছিল। আগের দিনের মত পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের কোনো ঘটনা এদিন ঘটেনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শিবলী নোমান বলেছেন, “যেহেতু তারা কোনো আনরুলি অবস্থানে ছিল না, সেইজন্য পুলিশও ধৈর্য্য সহকারে শান্তিপূর্ণ মিছিলকে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করেছে।”

কিন্তু তবুও শান্তিপূর্ণ মিছিল থেকে কার্যালয়ের কাছে স্কাউট ভবনের সামনে থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিক্ষোভ-মিছিলের নেতৃত্ব দেন। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট দিয়ে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন, ফকিরাপুল পানির ট্যাংক ঘুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আসে। মিছিলে আরও ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ফজলুল হক মিলন, সালাউদ্দীন আহমেদ, আবদুস সালাম, নেওয়াজ আলী, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, শফিউল বারী বাবু, মোরতাজুল করিম, এস এম জিলানী, গোলাম মওলা, তানভীর আহমেদ, খান রবিউল ইসলাম প্রমুখ। দলীয় কার্যালয়ে আগে থেকেই দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কয়েকজন নেতা অবস্থান করছিলেন। মিছিলটি কার্যালয়ের সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান করে শেষ হয়।

অবশ্য দৈনিক বাংলার কাছে গিয়ে মিছিল থেকে সরে একটি গাড়িতে ওঠেন পড়েন মির্জা ফখরুল।

পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যে বিএনপি-নেতাকর্মীদের মিছিল কোথাও কোথাও কিছুটা এলোমেলো হয়ে যেতে দেখা যায়। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মিছিলে উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে ফকিরাপুল দিয়ে মিছিলটি নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় মিছিলকারীদের অনেকেই বিভিন্ন গলিতে ঢুকে যান। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও তারা জড়ো হয়ে নতুন করে মিছিল শুরু করেন।

‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই’, ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ্বলবে আগুন সারাদেশে’- ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে মিছিলটি যখন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, ওপরে ব্যালকনি থেকে হাততালি দিয়ে তাদের সমর্থন দিতে দেখা যায় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে।

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবাদের মিছিল বেশ বড় আকার পায়। পুলিশ সদস্যদের পেছনে রেখে কয়েকশ বিএনপিকর্মীর ওই মিছিল নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে এগোতে থাকে।

এক পর্যায়ে সামনে থেকে পুলিশের আরেকটি দল এগিয়ে এলে সংঘাত এড়াতে মিছিলকারীরা নাইটিঙ্গেল মোড়ের আগেই একটি গলির মধ্যে ঢুকে পড়েন আর তখনই পেছনের পুলিশ সদস্যরা বাঁশি বাজাতে বাজাতে লাঠি হাতে তেড়ে যান। পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানও তখন রাস্তায় ছিল।

ওই গলি থেকে কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা।
শান্তিপূর্ণ মিছিলের শেষ দিকে পুলিশের ধাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শিবলী নোমান বলেন, মিছিলকারীরা যেহেতু গলিতে ঢুকে পড়েছিল, সেখানে যেহেতু বাসা-বাড়ি আছে, সে কারণে হয়ত পুলিশ সেখানে গেছে।

Top