You are here
Home > অবাক-বিস্ময় > মুসলিম কিশোরকে হিন্দু দেবতা জ্ঞানে পুজো

মুসলিম কিশোরকে হিন্দু দেবতা জ্ঞানে পুজো

মুসলিম কিশোরকে হিন্দু দেবতা জ্ঞানে পুজো

এই কিশোরের নাম মহম্মদ রাইহান। বয়স মেরেকেটে ১৩ হবে! স্কুলে বন্ধুবান্ধবরা তাঁকে ভীষণ উত্যক্ত করে। চলে মারধরও। কারণ? রাইহানের গোটা শরীরে প্রচুর লোম। এমনকী, মুখেও। ছাড়া ওই কিশোরের দুই ঠোঁট যথেষ্ট পুরু, দুই ভ্রু ক্রমশ মিলিয়ে গিয়েছে মাথার চুলের সঙ্গে। নাকটাও অসম্ভব রকমের চওড়া এবং থ্যাবড়া। সহপাঠীদের অনেকেই তাকে নেকড়ে বাঘ বলে ডাকে। কিন্তু, সবে কিছু মনে করে না রাইহান। এটাই তার ভবিতব্য বলে মেনে নিয়েছে ওই কিশোর

 

এর একটা উল্টো দিকও আছে। যে কারণে তার সহপাঠীদের তাকে নেকড়ে বাঘ বলে মনে হয়, ঠিক একই কারণে রাইহানের গ্রামের লোকদের তাকে হনুমান বলে মনে হয়। সেখান থেকেই তাকে পুজো করার শুরু। শুধু তার গ্রাম নয়, আশপাশের বহু গ্রামের মানুষের কাছেই সে হিন্দুদের ভগবানহনুমানজি ওইভক্তদের মতে, সে আসলে হনুমানজির যুগের অবতার। সেই ভাবনা থেকেই মুসলমান ওই কিশোরের পুজোপাঠ

 

কিন্তু, মানুষ রাইহান সবে কিছু মনে করে না। তার কথায়, ‘‘কিছু মানুষ আমাকে দেখে হাসে। অন্যেরা আমার কাছে আশীর্বাদ চাইতে আসে। আমি সবে মোটেও গুরুত্ব দিই না।’’ এর পরে তার সংযোজন, ‘‘আমার খুব হাসি পায়, যখন দেখি আমাকে এক বার শুধু দেখবেন বলে অনেক সময় বহু দূর দূর গ্রাম থেকে মানুষজন আসেন।’’

 

কিন্তু, সে কি নিজেকে দেবতা বলে মনে করে? ইন্দোনেশিয়ার উত্তর কালিমান্টানের ওই গ্রামীণ কিশোর রাইহান বলে, ‘‘বহু মানুষ ভাবেন আমি ভগবান এবং আমার বিশেষ ক্ষমতা আছে। আসলে আমি তো অন্যদের থেকে একেবারেই আলাদা দেখতে। আর সে কারণে কেউ যদি সব ভাবে, আমি তো সেই ভাবনা আটকাতে পারব না।’’ আসলে রাইহান জানে, চিকিত্সকেরা তাকে নিয়ে কী বলেছেন। তাঁরা বলেছেন, হর্মোনের সমস্যার কারণেই তার শরীরে এত লোম। জন্য লেজার চিকিত্সার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু, রাইহানের স্বামীহারা মায়ের পক্ষে অত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। রাইহানকে পুজো করতে দেওয়ার সম্মতি দেওয়া ছাড়া তার আর কিছুই করার উপায় নেই যে!

Top