You are here
Home > সারাদেশ > বাড়ি ফিরেছে তনুর ভাইয়ের বন্ধু সোহাগ

বাড়ি ফিরেছে তনুর ভাইয়ের বন্ধু সোহাগ

বাড়ি ফিরেছে তনুর ভাইয়ের বন্ধু সোহাগ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী নিহত সোহাগী জাহান তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেলের বন্ধু মিজানুর রহমান সোহাগের (২০) সন্ধান পাওয়া গেছে। নিখোঁজ হওয়ার ১৬ দিন পর আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁকে পাওয়া যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার নাজিরাবাজার এলাকায়। গত ২৭ মার্চ রাতে সোহাগকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করে তাঁর পরিবার। এরপর থেকেই অজানা আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছিলেন পরিবারটির সদস্যরা।

সোহাগের বোন খালেদা আক্তার জানান, সকাল ৬টার দিকে নাজিরাবাজার রাস্তার পাশে তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন তাঁর চাচা সেলিম মিয়া। তিনি সোহাগকে বাড়ি নিয়ে আসেন। সেলিম মিয়া এ সময় হাঁটতে বের হয়েছিলেন। সেলিম মিয়া বলেন, “সোহাগ কোথায় ছিল, কারা দিয়ে গেছে- সে কিছুই জানে না। তাকে জিজ্ঞেস করতে না করেছে। সে এখন গোসল করে ঘুমিয়েছে। তার মাথাব্যথা করছে।” এ সময় খালেদা আক্তার তাঁর ভাই সোহাগকে ফিরে পাওয়ায় সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান।

এদিকে সোহাগকে ফিরে পাওয়ার বিষয়ে তার চাচাত ভাই মোশাররফ তুহিন বলেন, ওকে ফিরে পাওয়া নিয়ে আমরা বেশ উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমি সংবাদ মাধ্যম থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অফিস, মানবাধিকার কমিশনের অফিস সব জায়গায় গিয়েছি শুধু সোহাগকে সুস্থভাবে ফিরে পাওয়ার আশায়। এখন যেহেতু ওকে ফিরে পাওয়া গেছে তাই কারো প্রতি আর কোন ক্ষোভ আমাদের নেই।

এর আগে সোহাগের বাবা নুরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ২৭ মার্চ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের নারায়ণসার গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রাতে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে সোহাগকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কোথাও সোহাগের খোঁজ না পেয়ে তিনি ৩০ মার্চ বুড়িচং থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন।

সোহাগের বাবা বলেন, “তনু হত্যার খবর টিভিতে দেখে তনুর ভাই আনোয়ার হোসেনকে ফোন দিয়েছিল সোহাগ। এরপর এলাকায় তনু হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ সংগঠিত করে সোহাগ।” এসব অভিযোগেই তাঁর ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে  বলে ধারণা করেন নুরুল ইসলাম। গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার অদূরে একটি জঙ্গলে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। তাঁকে হত্যা করে মৃতদেহ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরদিন তনুর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) থেকে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে।

Top