You are here
Home > প্রযুক্তি > সাবধান! অভিনব বিকাশ প্রতারকদের কাছ থেকে

সাবধান! অভিনব বিকাশ প্রতারকদের কাছ থেকে

সাবধান! অভিনব বিকাশ প্রতারকদের কাছ থেকে

কুড়িল বিশ্বরোড়ের ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. হেলাল হোসেন। তিনি দুই দিন আগে কুড়িল চৌরাস্তায় যান তার নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা ভরতে। বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে টাকা লোডও করেন তিনি। কিন্তু বাসায় এসে তিনি নিজের মোবাইলে বিকাশের আরেকটি মেসেজ পান। সেই মেসেজ দেখে বুঝতে পারেন তার মোবাইলে অতিরিক্ত আরো ৩ হাজার টাকা লোড হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরেই (০১৭৫৩১১০৫০২) এই নাম্বার থেকে তার মোবাইলে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে একজন তাকে বলেন ভুলে তার মোবাইলে ৩ হাজার টাকা চলে গেছে। কিন্তু তার টাকার খুব দরকার কারন মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তাই তিনি যদি দয়া করে ওই নাম্বারে তার টাকা টা ফেরত দেন তাহলে তার খুব উপকার হয়।

হেলাল নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স চেক না করেই সরল বিশ্বাসে ওই ব্যক্তির নাম্বারে ৩ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দেন। আর তারপর তিনি বিকাশ থেকে ফিরতি যে মেসেজ পান তা দেখেই তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন। কারন এর আগে তিনি ৩ হাজার টাকা পাওয়ার যে মেসেজ পেয়েছিলেন তা শুধু মেসেজই ছিল। ওই টাকা তার অ্যাকাউন্টে যোগ হয়নি। তাই তিনি যে টাকা এখন ফেরত দিলেন তা পুরোটাই তার নিজের টাকা। পরে তিনি ওই নাম্বারে ফোন দিলে অপর প্রান্ত থেকে তাকে গালাগালি করা হয় এবং পরে ওই নাম্বারে কল ঢুকলেও কেউ আর রিসিভ করে না। এভাবেই নিজের বোকামীর কথা ব্রেকিংনিউজ প্রতিবেদকের কাছে প্রকাশ করেন তিনি।

শুক্রাবাদে থাকে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কুড়িগ্রাম থেকে আসা হাসানুর। নিজের প্রয়োজনে সে বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসে বিকাশের মাধ্যমেই। কিছুদিন আগে তার টাকার প্রয়োজন হলে সে তার পিতাকে নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা পাঠাতে বলে। পরদিন তার পিতা তাকে ২ হাজার টাকা পাঠিয়ে তার কাছে ফোন দিয়ে জানতে চায় সে ২ হাজার টাকা পেয়েছে কিনা। হাসানুর তার মোবাইল চেক করে ২ হাজার টাকা আসার মেসেজ দেখে নিশ্চিত হয়ে তার পিতাকে জানিয়ে দেয় টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু তার পরের ঘটনা পুরোই ভিন্ন। কারন যখন সে টাকা তুলতে যায় তখন অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখে সেখানে কোন টাকা নেই। পরে তার বাবাকে বিষয়টি জানালে উনি সংশ্লিষ্ট বিকাশ এজেন্টের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানালেও ওই এজেন্ট তাকে কোন টাকা ফেরত দেয়নি। বরং তাৎক্ষনিক তিনি যে টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন সেটি মনে করিয়ে দেয়। পরে তিনি আর কোন কথা না বাড়িয়ে চলে আসেন।

এভাবে প্রতিনিয়ত বিকাশ প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে নিজেদের অর্থ হারাচ্ছেন দেশের সাধারন মানুষ। টাকার অংক বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে অনধিক ৫ হাজার হওয়ায় বিকাশ গ্রাহকরা এ ক্ষেত্রে নিজেদের নির্বুদ্ধিতাকেই দোষছেন। আর এটি নিয়ে বিকাশ অফিসে বা কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। কারন বিষয়টির সাথে তারা নাকি জড়িত নয়। তাদের ভাষায়, এটি পুরোপুরিভাবে প্রতারক চক্রের কাজ।

তবে এক্ষেত্রে বিকাশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও বিকাশ এজেন্টের জড়িত থাকারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা কোন গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে শুধু মাত্র সেটি প্রতারকদের কাছে বলে দেয়। আর প্রতারকরা সেই তথ্য নিয়ে সূক্ষভাবে প্রতারনার কাজ সম্পন্ন করে।

কিন্তু কিভাবে করে তারা এই প্রতারনা। এ বিষয়ে জানতে চাই তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং ওএস ক্লিকস এর কর্ণধার রুপম রাজ্জাকের কাছে। তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, প্রতারকরা এই প্রতারনার কাজে ইন্টারনেট মেসেজিং সিস্টেমের সাহায্য নেয়। বিকাশ থেকে কোন মেসেজ এলে তাতে যেমন bKash কথাটি লেখা থাকে, ইন্টারনেট মেসেজিং থেকে কারো মোবাইলে মেসেজ পাঠালে তারা সেন্ডার নাম্বারে ওই একই রকমভাবে bKash কথাটি লিখে দেয়। এতে করে যার মোবাইলে মেসেজ পাঠানো হয় সেখানে বিকাশের মত করেই একটি মেসেজ যায়। আর ভিতরের কথা-বার্তা তারা বিকাশ মেসেজের মত করে হুবহু লিখে দেয়। তাতে করে পাঠানো মেসেজের বিশ্বাস যোগ্যতা নিয়ে হঠাৎ করেই কোন প্রশ্ন উঠে না। যতক্ষণ না গ্রাহক নিজের মোবাইলে বিকাশ ব্যালেন্স চেক করেন।

বিষয়টি নিয়ে বিকাশের সিএফও মঈনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না।

Top