You are here
Home > ঢাকার খবর > ইলিশ নিয়ে ফেসবুকে বাড়াবাড়ি বাস্তবে হুড়োহুড়ি

ইলিশ নিয়ে ফেসবুকে বাড়াবাড়ি বাস্তবে হুড়োহুড়ি

ইলিশ নিয়ে ফেসবুকে বাড়াবাড়ি বাস্তবে হুড়োহুড়ি

প্রায় ১ দশক হতে চলল কিভাবে যেন বাঙ্গালীর বর্ষ বরণে ঢুকে পড়েছে ইলিশ। পান্তা-ইলিশ পেয়েছে ব্র্যান্ডের মর্যাদা। কিন্তু তাতে যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির মুখে পড়েছে আমাদের ইলিশ শিল্প তা বোধ করি এখন সবাই জানে। তাই তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক প্রচারনা। সবাইকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে ইলিশ মাছ কেনার জন্য। কিন্তু বাজারের অবস্থা কি? চলুন না একবার দেখে আসি।

৮ই এপ্রিল শুক্রবার ছুটির দিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়। ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় বাজার দামে ছিল বৈশাখী উত্তাপ। বিক্রেতারা বড় আকারের প্রায় দুই কেজি ওজনের ইলিশ ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা দাম হাঁকিয়েছেন। কিন্তু এসব ইলিশ সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। ছোট আকারের ইলিশও চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। তবে বাজারে ইলিশের কমতি ছিল না।

বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি ছোট ইলিশের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। তবে বড় ইলিশ দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ছোট ইলিশ বিক্রি হয়েছে আড়াইশ’ থেকে ৩০০ টাকায়। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা ও এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ হাজার টাকায়।

বিক্রেতারা জানান, বৈশাখ যত এগিয়ে আসবে, ইলিশের দাম আরও বাড়বে। এখন বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো বৈশাখের উৎসবকেন্দ্রিক এবারও ইলিশের দাম বাড়ছে। তবে অন্য বছর দাম দিলেও অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী মাছ মেলেনি। এবার টাকা দিলে মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

খুচরা বাজারের পাশাপাশি রাজধানীর সুপার স্টোরগুলোতে শুরু হয়েছে ইলিশ মেলা। সুপার শপে তুলনামূলক কম দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৮৮ থেকে ৪৪৫ টাকা, ৭০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম ৭৪৫ টাকা, প্রায় এক কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৯৫ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকা ও এক কেজির বেশি কিন্তু দেড় কেজির কম দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এবার ইলিশের মজুদ বেশি থাকায় খুচরা বাজার আর সুপারশপে ইলিশ সীমাবদ্ধ নেই। বৈশাখ উপলক্ষে পাড়া-মহাল্লা, অলি-গলি ও ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে।

১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ সংরক্ষণে ‘অভয়াশ্রম কর্মসূচি’। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। এ দুই মাস দেশের পাঁচটি অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অভয়াশ্রম এলাকায় কোনো ধরনের জাল ফেলা নিষিদ্ধ। ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২০০৬ সাল থেকে এ কর্মসূচি চলছে। এ সময় মাছ শিকারে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। এ কারণে এখন ইলিশ ধরা বন্ধ। ফলে বাজারে তাজা ইলিশ এখন আর আসছে না।

তাজা ইলিশ আসা বন্ধ থাকার পরও বাজারে পদ্মার তাজা ইলিশ বলে চড়া দাম হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের কাছ থেকে চড়া দাম নিতে নানা কৌশলে কথা বলছেন তারা।

Top