You are here
Home > জাতীয় > নাজিমুদ্দিন হত্যায় উত্তাল জবি চলছে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

নাজিমুদ্দিন হত্যায় উত্তাল জবি চলছে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

নাজিমুদ্দিন হত্যায় উত্তাল জবি চলছে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিমুদ্দিন সামাদকে খুনের ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ হত্যার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ গেটের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে।

কোতয়ালী থানার ওসি আবুল হাসান জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা শন্তিপূর্ণ সমাবেশ করছে। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যার পেছনে উগ্রধর্মীয় গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে।

নাজিমুদ্দিন সামাদ একজন ব্লগার ছিলেন। ব্লগে উগ্রধর্মীদের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে তাকে টার্গেট করা হয়। অন্যদিকে পুলিশের ওয়ারি বিভাগের উপ-কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, পূর্ব পরিকল্পনা অনুয়ায়ী তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সুবিধা থাকলে আজকে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড হতো না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের মিছে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বমহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, নাজিম উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি সিলেটের কোনো দ্বন্দ্ব নাকি ব্লগে লেখালেখির কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে; এ দু’টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (পূর্ব) এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। তবে তদন্তে এসব বিষয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক , পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব ছিল কিনা তাও ‍খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বলেন, দুই মাস আগে সিলেট থেকে ঢাকায় আসে নাজিম উদ্দিন। গেন্ডারিয়ার একটি ম্যাচে বন্ধুদের সঙ্গে থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে সান্ধ্যকালীন এলএলএমে কোর্সে পড়াশোনা করতেন।

তিনি বলেন, সিলেটের কোনো দ্বন্দ্বে নাকি অন্য কোনো কারণে এ হত্যা তা তদন্ত করে দেখছি। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মোবাইলের কললিস্ট যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নাজিম উদ্দিন ও তার বন্ধু সোহেল রাতে ক্লাস শেষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসায় ফিরছিলেন। রাত সোয়া ৮টার দিকে একরামপুর মোড় এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে ৪/৫ জন যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তাকে কুপিয়ে ফেলে রেখে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায় খুনিরা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, হামলাকারীরা নাজিম উদ্দিনের মাথার ডানপাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সোহেল দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ওই কর্মকর্তা জানান, সোহেল এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। আমরা তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছি। তিনি  হামলাকারীদের কাউকে চিনতে পেরেছেন কিনা জানার চেষ্টা করছি।

এদিকে, নাজিমুদ্দিন সামাদের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি নিজেকে সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক হিসেবেও কাজ করেছিলেন বলে তার ফেসবুক বন্ধুরা জানিয়েছেন।

সূত্রাপুর থানা পুলিশ জানায়, তারা নাজিম উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিডফোর্ট হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে ফিরবেন ‍তার বড় ভাই। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।

Top