You are here
Home > জীবনযাপন > ‘সাড়া দাও কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেখিও না’

‘সাড়া দাও কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেখিও না’

সাড়া দাও কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেখিও না

গুগলের সিইও সুন্দর রাজন পিচাই ভারতের আইইটি’র ছাত্র। আইআইটি-এমআইটির এই প্রাক্তনী গুগল আই/ও তে একটি অসাধারণ বক্তব্য দেন। ব্রেকিংনিউজ পাঠকদের জন্য সেই বক্তব্যটি ভাষান্তর করা হল।

বক্তব্যটির শিরোনাম দেয়া হয়েছে “আত্মোন্নয়নে তেলাপোকা তত্ত্ব”।

একদিন আমি একটি রেষ্টুরেন্টে বসে কফি খাচ্ছিলাম। ওই রেষ্টুরেন্টে বসা এক মহিলার গায়ে কোথা থেকে যেন হঠাৎ একটি তেলাপোকা উড়ে এসে বসলো। এতে সে ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করলো। ভয়ের চোটে তার চোখ-মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে লাফাতে শুরু করল। দুই হাতে এলোপাতাড়িভাবে তেলাপোকাটিকে শরীর থেকে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করলো।

তার প্রতিক্রিয়াটি ছিল সংক্রামক, তাই তার সাথে বসা অন্য মহিলারাও ভয়ে চিৎকার করছিলো। অবশেষে মহিলাটি তেলাপোকাটিকে তার শরীর থেকে ছুঁড়ে ফেলতে সমর্থ হলো।

কিন্তু সেটি তখন ওই মহিলার দলের অন্য আরেক মহিলার গায়ে গিয়ে পড়লো। সেই মহিলাও প্রথম মহিলার মত একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি শুরু করল।

ঘটনা কি দেখার জন্য ইতিমধ্যে সেখানে রেষ্টুরেন্টের একজন ওয়েটার ছুটে এল। সে সময় ঘটনাক্রমে ২য় মহিলা তার শরীর থেকে তেলোপোকাটিকে ছুড়ে দিলে সেটি এসে পড়ল ওই ওয়েটারের গায়ে। ওয়েটার কিন্তু তাতে আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়ল না বরং সে দাড়িয়ে তেলাপোকাটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকলো। এবং সুযোগ বুঝে খপ করে সেটিকে ধরে রেষ্টুরেন্টের বাইরে ফেলে দিল। কাহিনী শেষ।

আমি কফির মগে চুমুক দিচ্ছিলাম আর তাদের কাণ্ডকারখানা দেখছিলাম। কিন্তু আমার মনের কোণে একটি প্রশ্ন থেকেই গেল আর তা হল এই ঘটনার জন্য আসলে কে দায়ী। তেলাপোকা না মহিলারা। যদি তেলাপোকাটি দায়ী হয় তাহলে যে ঘটনা মহিলাদের বেলায় ঘটেছে তা ওয়েটারের বেলায় ঘটল না কেন? এর মানে হল হাস্যকর পুরো ঘটনাটির জন্য কিন্তু মহিলা দুজন দায়ী। কারণ তারা ওই পরিস্থিতিটি মোকাবেলা করতে অক্ষম ছিলেন। যেটি পেরেছিলেন ওয়েটার।

আরও বুঝলাম – বাবা, বস বা আমার স্ত্রীর চিৎকার আমাকে বিরক্ত করে না, বরং তাদের প্রতি বিরক্ত হওয়াকে আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা বলেই বিরক্ত হই। রাস্তার ট্রাফিক জ্যাম বিরক্তির কারণ নয়, কারণ হলো জ্যামের জন্য সৃষ্ট বিরক্তি সামাল দেয়ার অপারগতা।

সমস্যাটির চেয়ে সমস্যার প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিই আমাদের আরো বিরক্ত করে তুলে।

ঘটনাটি থেকে আমি শিক্ষা নিয়েছিলাম, জীবনে কখনো প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না বরং সাড়া দিতে হবে। মহিলা দুটি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল আর ওয়েটারটি সাড়া দিয়েছিল।

প্রতিক্রিয়া মানুষের স্বভাবজাত কিন্তু সাড়া দেয়ার প্রবণতা আসে ভালো চিন্তাভাবনা থেকে। জীবনকে বোঝার একটি অসাধারণ পথ এটা।

যে মানুষটা তার জীবন নিয়ে খুশি, এমন নয় যে তার জীবনের সব কিছুই ঠিকঠাক চলছে। সে খুশি কারণ তার দৃষ্টিভঙ্গি। সে ভাবে তার জীবনের সবকিছুই ঠিকঠাক চলছে। এজন্যই সে খুশি।

Top