You are here
Home > জীবনযাপন > জীবনে সফল হতে যে ১০টি কাজকে অবশ্যই না বলবেন

জীবনে সফল হতে যে ১০টি কাজকে অবশ্যই না বলবেন

জীবনে সফল হতে যে ১০টি কাজকে অবশ্যই না বলবেন

আমাদের জীবনে প্রযুক্তি জায়গা করে নেয়ার পর থেকে তথ্যের কোন ঘাটতি হচ্ছে না। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে সব সময় টাইম লাইনে ঘুরতে দেখি কোন কাজগুলো করলে সহজে সফল হওয়া যাবে এমন কিছু্। জীবনে সফল হতে গেলে প্রয়োজন কর্মক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু কর্মক্ষমতা বা কর্মদক্ষতা বাড়াতে গেলে আপনাকে কোন বিষয়গুলোকে না বলতে হবে, সেটা জানা প্রয়োজন। তাই আমরা আপনাকে জানাব এমন ১০টি বিষয় যা পরিত্যাগ করতে পারলে আপনার সফলতা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

১. আরামকে বিদায় বলুন
কর্মক্ষমতা বাড়াতে আপনাকে প্রথমেই আরামকে পরিত্যাগ করতে হবে। মনে রাখবেন আরামকে কাছে টানলেন তো সফলতাকে দুরে ঠেলে দিলেন। আপনি যদি দেখেন কর্মক্ষেত্রে আপনি বেশ সুখী, বাড়তি কোন চিন্তা নেই, কোন প্রকার ঝামেলা নেই তাহলে নিশ্চিত হয়ে যান আপনার জীবনে উন্নতিও নেই। জীবনে সফল হতে চাইলে অবশ্যই অধিক চাপের মধ্যে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। আর সেটি যদি থাকে আপনি সফল হবেনই।

২. কোন কিছু শেখার আগেই প্রয়োগ বন্ধ করুন
আমাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা কোন কিছু শিখতে গেলে শেখার কিছু দিন পরই ভাবেন, আরে এটি তো আমি পারি। এই বলে সেই অল্প বিদ্যা নিয়ে কাজ শুরু করে দেন। শেষে যেটি হয়, যে কাজে তিনি হাত দিয়েছেন সেটিও হয়না আর ইতিমধ্যে মন থেকে শেখার স্পৃহাও নষ্ট হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিরা আসলে যেটি করেন, তা হল তারা একই সাথে নতুন বিষয় শিখতে থাকেন এবং পুরনো শেখা জ্ঞানকে প্রয়োগের চেষ্টা করেন। তাতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথটি অনেক মসৃণ হয়।

৩. শেখার ব্যাপারে কারো কাছ থেকে সাহায্য নিতে কুন্ঠিত হবেন না
সামাজিক ও পেশাদারী জীবনে আপনি তখনই অন্যের কাছ থেকে পিছিয়ে পড়বেন যখন আপনি কারো কাছ থেকে কোন কিছু শেখার ব্যাপারে কুন্ঠাবোধ করবেন। একেকজন মানুষ একেক বিষয়ে অভিজ্ঞ থাকে। কেউ জন্মগতভাবেই একটি বিষয় ভালো বোঝে, আবার কেউ অনেক দিন সময় নিয়ে একটি বিষয়ে পান্ডিত্য অর্জন করে। তাই বিষয়টি যখন শেখার তখন ব্যক্তির অবস্থানের দিকে মন না দিয়ে তার পান্ডিত্যের দিকে মন দিন। আর ভালোভাবে তার কাছ থেকে বিষয়টি রপ্ত করুন।

৪. ছোট কাজ করতে যেয়ে প্রধান লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবেন না
বড় একটি কাজ করতে গেলে তার সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো কাজ থাকে। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হল সেই শাখা কাজগুলো প্রধান কাজটির তুলনায় বেশ সহজ ও আরামদায়ক হয়। তাই আপনি যদি কোন লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করতে যেয়ে সেই লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট ছোট কাজগুলোতে অধিক সময় নষ্ট করেন তাহলে আপনি অবশ্যই মুল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবেন। তাই অবশ্যই যত কাজই করুন জীবনের মুল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবেন না।

৫. একই সাথে একাধিক কাজ নয়
অনেকে ভাবেন, জীবনে বড় হতে গেলে অনেক কাজ করতে হবে। তাদের ভাবনা মিথ্যা নয়। কিন্তু যারা ভাবেন সব কাজ সমান্তরালে করে খুব দ্রুত সফল হব, ভুলটা করেন তারা। কারণ যখন অনেকগুলো কাজ সমান্তরালে হাতে নেয়া হয় তখন কোন কাজেই ভালোভাবে মনযোগ দেয়া সম্ভব হয় না। ফলে যা হওয়ার তাই হয়। বেশির ভাগ শ্রমই বৃথা যায়।

৬. নিজের কাছে সৎ থাকুন
পেশাদারিত্বের খাতিরে অনেক সময় আপনার চিন্তার স্খলন ঘটতে পারে। অন্যকে দেয়া কথা নাও রাখতে পারেন। কিন্তু নিজেকে কখনো ফাঁকি দেয়ার চেষ্টাও করবেন না। তাহলে আপনার নৈতিক অধ:পতন শুরু হবে। তখন আপনি নিজেই সিদ্ধান্তে আসতে পারবে না আপনি আসলে চাচ্ছেনটা কী?

৭. নিজের কাজ সম্পর্কে অন্যের মূল্যায়ন চাওয়ার ব্যাপারে লজ্জাবোধ করবেন না
ভাবুন তো, কোন চিত্রপরিচালক খুব সুন্দর একটি ছবি বানালো কিন্তু সে কোন দিনই জানতে পারলো না দর্শকদের প্রতিক্রিয়া তা হলে ব্যাপারটা কেমন হবে। যে কোন কাজের মুল্যায়ন ২ ভাবে আপনার সামনে আসবে। হয় ভালো নয় খারাপ। মুল্যায়ন খারাপ আসতে পারে এই ভেবে যদি কারো মুল্যায়ন নেয়া থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেন তাহলে বলব আপনার মত অভাগা আর নেই। কারণ মুল্যায়ন দেয়ার ব্যাপারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও কাজ করে। যে কাজটিকে একজন খারাপ বলছে সেটিই কিন্তু আরেকজন ভালো বলতে পারে। তাই অবশ্যই সব কাজের সূক্ষ্ণ বিচার বিশ্লেষণের জন্য মুল্যায়ন খুব জরুরী।

৮. অনুসরন নয় নেতৃত্ব দিন
অনুসরণ কিংবা অনুকরণ করে জীবনের একটি পর্যায় পর্যন্ত হয়ত যেতে পারবেন। কিন্তু কখনোই নিজেকে অনুসরনীয় ব্যক্তিতে পরিণত করতে পারবেন না। নিজেকে অন্যের কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিতে পরিণত করতে চাইলে নেতৃত্ব দেয়াটা অবশ্য করণীয় কাজ। আর এই নেতৃত্ব হতে পারে যে কোন কাজে, যে কোন ক্ষেত্রে। যখন আপনি একদল লোক নিয়ে নিজের নেতৃত্বে সাফ্যলের সীমারেখা পার করবেন তখন বুঝবেন আপনার জীবন সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে।

৯. অতীতকে দিয়ে ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করবেন না
বহু যুগ আগে জ্ঞানীরা বলে গেছেন, জীবনে সফলতা পেতে চাইলে অতীতের অনেক তিক্ত স্মৃতিকেও সহজে ভুলে যেতে হয়। এই বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান নিতে আপনি আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের জীবনীও পর্যালোচনা করে দেখতে পারেন। অতীতকে নিয়ে চলতে চাইলে ভবিষ্যত আপনার কাছ থেকে দুরে সরে যাবে। আপনাকে বুঝতে হবে অতীতে যা ঘটেছে তা আপনার পক্ষে আর পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু আসছে ভবিষ্যতকে চাইলেই আপনি আপনার মত করে সাজিয়ে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনার কি উচিত হবে না ভবিষ্যতের জন্যই মন প্রাণ ঢেলে কাজ করা।

১০. নেতিবাচক মানুষের সাথে চলবেন না
উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এটি। ভাবছেন কিভাবে? কথায় আছে না সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। জীবনে সফল হতে চাইলে আপনাকে সবসময় পজিটিভ বা ইতিবাচক লোকদের সাথে মিশতে হবে। তাদের পরামর্শ নিতে হবে। আর সচেতনভাবে নেতিবাচক লোকদেরকে পরিহার করতে হবে, তারা আপনার যত কাছের মানুষই হোক না কেন। কারণ তারা আপনার সাফল্যের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়।তারা আপনার মধ্যে হতাশা ছড়াবে। আপনি যেটাকে সম্ভব বলে মনে করছেন তারা সেটাকে আপনার কাছে অসম্ভব মনে করাবে। সর্বোপরি নেতিবাচক ধারনার মানুষেরা আপনার মধ্যে থেকে উচ্চাকাঙ্ক্ষার বীজটিকে পিষে মেরে ফেলবে।

Top