You are here
Home > জীবনযাপন > হতাশা থাকলে ঝেড়ে ফেলুন, বাঁচতে শিখুন নিকের কাছে

হতাশা থাকলে ঝেড়ে ফেলুন, বাঁচতে শিখুন নিকের কাছে

হতাশা থাকলে ঝেড়ে ফেলুন, বাঁচতে শিখুন নিকের কাছে

জীবনে এটা করতে পারিনি, ওটা করতে পারিনি। এ জীবন আর ভালো লাগে না, এমন কত শত হতাশা উকি দেয় আপনার মনে। কিন্তু আজ যার কথা আপনাদেরকে শোনাব, সেটি শুনলে এই জীবনকেই অসাধারন মনে হবে আপনার কাছে।

পায়ের উপর পা তুলে কোনও দিনই বসতে পারে নি তিনি। আনন্দ হলে হাততালি দেওয়ারও ক্ষমতা নেই। তবু হাসি সরে না নিক ভিউজিসিকের মুখ থেকে। জন্মেছিলেন স্বাভাবিক মানুষের মতই, শুধু হাত আর পা ছিল না। বদলে, বাঁ পায়ের কাছে ছোট্ট একটা মাংসের দলা, পায়ের মত দেখতে, তবে আদৌ পা নয়।
চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানা গেল, দুরারোগ্য টেট্রা অ্যামেলিয়া সিনন্ড্রোমে আক্রান্ত তিনি। যে রোগের ফলে শরীরের কয়েকটি অঙ্গ তৈরি হয় না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাত ও পা। নিকেরও স্বাভাবিক মানুষের মত হাত, পা তৈরি হয়নি।

এতকিছুর পরে হতাশ হয়ে থেমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক, তবে এক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম তিনি। দ্বিগুন উদ্যমে, মনের জোরে সব বাধাকে অতিক্রম করতে মাঠে নেমে পড়লেন। স্কুলে ভর্তি হলেন। ছাত্রজীবনে স্কুলের ক্যাপ্টেনও হলেন। তবু যে তিনি আর পাঁচটা মানুষের মত দেখতে না। তাই রাস্তা ঘাটে রোজ কপালে জুটতো হাজারো ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ।

সেই সব নিন্দুকদের নাম মনে না রাখলেও, বিশ্ব চিনেছে নিক কে। তার সংগঠন ‘লাইফ উইদাউট লিমিটস’ এর জন্য। নিজের প্রতিবন্ধকতার দিকে তাকিয়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি ঠিক করেন, নতুন কিছু একটা করার। প্রথমেই তার মাথায় আসে সেই সব মানুষের কথা, যারা শারীরিক বা মানসিক কারণে হারিয়ে ফেলছেন বেঁচে থাকার ইচ্ছে। তাদের সাহস যোগাতে শুরু করলেন তিনি। হয়ে উঠলেন পৃথিবীর অন্যতম একজন জনপ্রিয় মোটিভেশনাল স্পিকার। নিজের সংগঠনের প্রসার ছড়িয়ে দেন পৃথিবী জুড়ে। লিখলেন বই, লাইফ অফ লিমিটস। তৈরি করলেন ছবি, বাটারফ্লাই সার্কাস।

সব কিছুতেই স্বাভাবিক মানুষের থেকে অনেক বেশি কৃতিত্ব। সব কিছুতেই একটা মন্ত্র নিকের, বেঁচে থাকতে হবে, মনের জোরে। কিছুই বাধা নয়। আপাতত সারা পৃথিবী জুড়ে নানা সভায় বক্তব্য রেখে বেড়াচ্ছেন। সঙ্গে স্ত্রী কিয়োশি জেমস। মাঝে মাঝে দুই সন্তানও সঙ্গে থাকে। দুজনই শারীরিক গঠনে স্বাভাবিক। কিন্তু, দুজনেই তাদের বাবার মতো হতে চায়!

Top