You are here
Home > কৌতুক > এবারের বিষয়: বোকা ও বুদ্ধিমান পর্ব-২

এবারের বিষয়: বোকা ও বুদ্ধিমান পর্ব-২

বোকা ও বুদ্ধিমান পর্ব-২

♦ মরা তোতাপাখি
দুই বন্ধু রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল।
প্রথম বন্ধু: হায়! দেখো, একটা মরা তোতাপাখি।
দ্বিতীয় বন্ধু আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কোথায়? কোথায়??’

♦ খাঁচাভর্তি মুরগি
মাথায় খাঁচাভর্তি মুরগি নিয়ে বাজারে যাচ্ছিল চাষিপুত্র। এমন সময় খাঁচাটা মাথা থেকে পড়ে ভেঙে গেল, মুরগিগুলোও ছাড়া পেয়ে সব এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করল। বহু কষ্টে সবগুলো মুরগি ধরে খাঁচার ভেতরে ঢুকাল চাষিপুত্র। ভয়ে ভয়ে বাড়ি ফিরল। চাষি বললেন, ‘কী রে, ফিরে এলি কেন?’
চাষিপুত্র: ইয়ে মানে, আব্বা, যাওয়ার পথে খাঁচাটা ভেঙে মুরগিগুলো বেরিয়ে গিয়েছিল। অবশ্য আমি ১১টা মুরগিই ধরে ফেলেছি, কোনোটাই পালাতে পারেনি।
চাষি: শাবাশ ব্যাটা! তুই সাতটা মুরগি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলি!

♦ বরযাত্রা
মন্টু: দ্যাখ দেখি কাণ্ড! কাল আমার বিয়ে। এদিকে মেয়েবাড়ি থেকে বলেছে বরযাত্রায় খুব বেশি লোক না নিতে। খুবই টেনশনে আছি।
শফিক: কেন? টেনশনের কী আছে?
মন্টু: গতবার পাশের বাড়ির এক চাচার বিয়ের সময় এমন হয়েছিলো, তখন বাবা আমাকে নিয়ে যায়নি। এবারো যদি বাবা তাই করে!

♦ দরজা এই দিকে
কদিন পর ঈদ। কাপড় ব্যবসায়ী তাহের মিয়া পড়েছেন বিপাকে। কথা নেই বার্তা নেই, ঈদের আগে তাঁর দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িয়ে গেছে। তাহের মিয়ার দোকানটা নিচতলায়। দোতলায় একটা নতুন কাপড়ের দোকান বড় করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে, ‘সকল জামার মূল্যে ৩০% ছাড়!’ তিনতলায় আরও একটা নতুন দোকান সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে, ‘সকল জামা-কাপড় সর্বনিম্ন দামে।’
ভেবেচিন্তে তাহের মিয়াও একটা সাইনবোর্ড লিখে দরজার সামনে লাগিয়ে দিলেন। তাতে লেখা, ‘দরজা এই দিকে!’

♦ রাত পর্যন্ত
ছোট্ট খোকা এক সকালে দোকানের একটা সাইকেল দেখিয়ে বলল, ‘আঙ্কেল, আপনাদের এই সাইকেলটা কি রাত পর্যন্ত থাকবে?’
দোকানদার: নিশ্চয়ই। কিন্তু কেন?
খোকা: কারণ, আমি এখন বাড়ি গিয়ে সাইকেলটা কেনার জন্য ঘ্যান ঘ্যান শুরু করব। দুপুর নাগাদ বিরক্ত হয়ে মা আমাকে মারবেন। সন্ধ্যা অবধি আমার কান্না থামবে না। বাধ্য হয়ে রাতে বাবা আমাকে সাইকেলটা কিনে দেবেন।

♦ ছাতায় ফুটো কেন
মন্টুর ছাতায় একটা বড় ফুটো দেখে সবাই জিজ্ঞেস করল, কী হে মন্টু, ছাতায় ফুটো কেন?
মন্টু বলল, আরে বোকা, বৃষ্টি থেমে গেলে বুঝব কী করে?

♦ বোকা-বুদ্ধু
ভোম্বলকে দাওয়াত করল তার এক বন্ধু। বন্ধুর বাসা আটতলায়। বহু কষ্ট করে সিঁড়ি দিয়ে আটতলায় উঠে সে দেখল, বন্ধুর বাসার দরজায় একটা কাগজ ঝোলানো। তাতে লেখা আছে, ‘ভোম্বল, তুমি বোকা হয়েছ! আমরা কেউ বাসায় নেই। ফিরে যাও।’
ভোম্বল নিচে লিখল, ‘বুদ্ধু, বোকা তো তুমি হয়েছ। আমি তোমার বাসায় আসিইনি!’

♦ আলাদিনের প্রদীপ
আলাদিনের প্রদীপ পেয়েছে রুস্তম। ঘষা দিতেই বেরিয়ে এল দৈত্য! ‘হু হো হা হা হা! আমি তোমার তিনটি ইচ্ছা পূরণ করব। কিন্তু একটা শর্ত আছে।’
রুস্তম: কী শর্ত?
দৈত্য: প্রতিটা ইচ্ছার সঙ্গে তুমি যা পাবে, তোমার শত্রুরা তার দ্বিগুণ পাবে।
রুস্তম: রাজি। প্রথমত, আমাকে একটা দামি গাড়ি দাও।
দৈত্য: এই নাও গাড়ি। তবে জেনে রেখো, তোমার শত্রুরা ইতিমধ্যে দুটো গাড়ি পেয়ে গেছে।
রুস্তম: আমি এক কোটি টাকা চাই।
দৈত্য: এই নাও, তোমাকে কোটিপতি করে দিলাম। জেনে রেখো, তোমার শত্রুরা এখন দুই কোটি টাকার মালিক।
রুস্তম: আমার অনেক দিনের শখ, একটা কিডনি দান করব!

♦ বাড়তি ওজন
মহাসড়ক ধরে ছুটে যাচ্ছিল একটা ক্যারাভ্যান। ক্যারাভ্যানের চালক আজব লোক! মাঝে মাঝেই জানালা দিয়ে হাত বের করে একটা লাঠি দিয়ে ক্যারাভ্যানের গায়ে বাড়ি দিচ্ছিলেন, আর বলছিলেন, ‘হুস, হুস…’। ব্যাপারটা লক্ষ করল এক মোটরসাইকেলচালক। একটা পেট্রল পাম্পে ক্যারাভ্যানটা থামতেই সে ছুটে গেল চালকের কাছে। বলল, ‘ঘটনা কী ভাই, আপনি একটু পরপর ক্যারাভ্যানের গায়ে বাড়ি দিচ্ছেন কেন?’
ক্যারাভ্যানচালক: ‘আর বলবেন না, আমার ক্যারাভ্যানের ধারণক্ষমতা ১০০০ কেজি। কিন্তু আমি ১৫০০ কেজি তোতা পাখি বহন করে নিয়ে যাচ্ছি। বারবার বাড়ি দিচ্ছি, যেন তোতা পাখিগুলো ক্যারাভ্যানের ভেতর উড়তে থাকে আর পুলিশের কাছে বাড়তি ওজন ধরা না পড়ে!’

♦ চিহ্নটিহ্ন
ছক্কু আর বল্টু, দুই বন্ধু দুটো ঘোড়া কিনেছে। ঘোড়া দুটোকে রেসের মাঠে কাজে লাগাবে, এমনটাই ইচ্ছা ওদের। কিন্তু কার ঘোড়া কোনটা, কী করে চিনবে ওরা? বুদ্ধি বাতলাল ছক্কু, ‘একটা চিহ্ন থাকতে হবে তো, এক কাজ করি চল। আমার ঘোড়ার লেজটা কেটে ফেলি। তাহলে সহজেই চেনা যাবে। লেজ কাটা ঘোড়াটা আমার, অন্যটা তোর।’ বল্টুরও মনে ধরল বুদ্ধিটা। কথামতোই কাজ করল দুজন।
পরদিন দেখা গেল, দুষ্টু ছেলেরা বল্টুর ঘোড়ার লেজটাও কেটে ফেলেছে। বাধল বিপাক। এখন চেনা যাবে কী করে?
এবার বলল বল্টু, ‘এক কাজ করি, আমার ঘোড়াটার একটা কান কেটে ফেলি। কান কাটা ঘোড়াটা আমার, অন্যটা তোর।’ যেই কথা, সেই কাজ। কেটে ফেলা হলো বল্টুর ঘোড়ার কান।
এদিকে দুষ্টু ছেলের দল পরদিনই অন্য ঘোড়াটারও কান কেটে নিল। এখন উপায়?
রেগেমেগে শেষে বলল ছক্কু, ‘দূর ছাই! অত চিহ্নটিহ্ন রাখতে হবে না। সাদা ঘোড়াটা তোর, আর লালটা আমার।’

Top