You are here
Home > কৌতুক > এবারের বিষয়: কৃপণ

এবারের বিষয়: কৃপণ

কৃপণ

♦ কৃপণের দান
ভীষণ কৃপণ বলে পরিচিত এক লোকের কাছে গিয়ে কিছু দান করতে বলল অনাথ আশ্রমের দু’জন লোক।
লোকটি বলল, আচ্ছা যান, আগামীকাল আমি পাঠিয়ে দেব।
পরদিন লোকটি রাস্তা থেকে ধরে এনে কয়েকটা অনাথ বালককে আশ্রমে পাঠিয়ে দিল।

♦ বাড়িতে অজগর
অফিসে দুই সহকর্মীর মধ্যে কথা হচ্ছে। প্রথম সহকর্মী বলছে, ‘বুঝলেন ইদ্রিস সাহেব, বুদ্ধি থাকলে সবই হয়। আমার বুদ্ধি আছে বলেই বড় খরচের হাত থেকে বেঁচে গেলাম।’
দ্বিতীয় সহকর্মী এতক্ষণ কাজে ডুবে থাকলেও যখন খরচ থেকে বেঁচে যাওয়ার কথা শুনল তখন কান খাড়া করল, ‘কী রকম?’
প্রথম সহকর্মী আবার বলতে শুরু করল, ‘সেদিন আমার ছোট ছেলেটা চিড়িয়াখানায় যাওয়ার জন্য বায়না ধরল। অনেক করে বোঝালাম। কিন্তু কে শোনে কার কথা। চিড়িয়াখানায় সে যাবেই। অজগর সে দেখবেই। এরপর আমি বুদ্ধি করে বাড়িতে বসিয়েই অজগর দেখিয়ে দিলাম।’
দ্বিতীয় সহকর্মী বেশ অবাক হলেন, ‘বলেন কী! বাড়িতে অজগর পেলেন কোথায়?’
প্রথম সহকর্মী হাসতে হাসতে বললেন, ‘একটা কেঁচো ধরে আনলাম। তারপর একটা আতশী কাঁচ দিয়ে এই কেঁচোটাই দেখিয়ে বললাম, এই দেখো অজগর।’

♦ বাস আর ট্যাক্সি ক্যাবের ফারাক
যাত্রী ছাউনিতে বসে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছে এক প্রেমিক। পাশেই বসে আছে তার প্রেমিকা। প্রেমিক তার চেহারায় গুরুগম্ভীর ভাব এনে বলল, মিতু, তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি। খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা।
প্রেমিকা ধরে নিল, এখন খুবই দার্শনিক টাইপের একটা কথা হবে। তাই সে সিরিয়াসলি বলল, হ্যাঁ, বলো।
প্রেমিক বলতে শুরু করল, মিতু, পৃথিবীতে চলতে হলে আমাদের অনেক কিছুরই ফারাক বুঝতে হয়, চিনতে হয়। আচ্ছা, তুমি আমাকে বলোতো, তুমি কি পাবলিক বাস আর ট্যাক্সি ক্যাবের ফারাক বোঝো?
প্রেমিকা মাথা নাড়াতে নাড়াতে বলল, না, বুঝিনা।
প্রেমিক এবার লাফ দিয়ে বসা থেকে উঠে বলল, তাহলে ক্যাবে যাওয়ার দরকার নেই। পাবলিক বাসেই চলো।

♦ খরচ বাঁচানো
দুই বন্ধুতে গল্প হচ্ছে।
১ম বন্ধু: হেঃহেঃ…জানিস, আমার মাথায় কত বুদ্ধি? বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমায় বউকে সঙ্গে না নিয়ে আমি একাই গেছি। ব্যস, অর্ধেক খরচ বেঁচে গেছে!
২য় বন্ধু: এ আর এমন কী? আমিতো পুরো খরচই বাঁচিয়েছি!
১ম বন্ধু: কীভাবে?
২য় বন্ধু: মধুচন্দ্রিমায় আমি না গিয়ে বউকে তার এক বন্ধুর সঙ্গে পাঠিয়েছি!

♦ চিরুনির শেষ কাঁটা
এক কিপটে গেছে চিরুনি কিনতে।
কিপটে: ভাই সাহেব, আমার একটা নতুন চিরুনি দরকার। পুরোনোটার একটা কাঁটা ভেঙে গেছে কিনা…।
দোকানদার: একটা কাঁটা ভেঙে গেছে বলে আবার নতুন চিরুনি কিনবেন কেন? ওতেই তো চুল আঁচড়ে নেওয়া যায়।
কিপটে: নারে, ভাই, ওটাই আমার চিরুনির শেষ কাঁটা ছিল যে!

♦ বিজ্ঞপ্তি
এক কৃপণ গেছে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে।
কৃপণ: ভাই, আমার বাবা মারা গেছেন। সবচেয়ে ছোট্ট একটা বিজ্ঞপ্তি দিতে কত টাকা লাগবে?
কর্মকর্তা: ১০০টাকা।
কৃপণ: ওহ্! এত? আচ্ছা যাক, দিলাম না হয় ১০০টাকা। লিখুন, ‘রফিক সাহেব মারা গেছেন।’
কর্মকর্তা: স্যার, কমপক্ষে আট শব্দের হতে হবে।
কৃপণ: আচ্ছা, তাহলে লিখুন, ‘রফিক সাহেব মারা গেছেন। একটি গাড়ি বিক্রয় হইবে।’

♦ ছোকলা রেখে আমাকে কলা দাও
রঞ্জু মিয়া বড়ই কৃপণ। এক বার তিনি গেছেন কলা কিনতে।
রঞ্জু মিয়া: কি ভাই, এই ছোট্ট কলাটার দাম কত?
বিক্রেতা: তিন টাকা।
রঞ্জু মিয়া: দুই টাকায় দেবে কিনা বলো?
বিক্রেতা: বলেন কি! কলার ছোকলার দামই তো দুই টাকা।
রঞ্জু মিয়া: এই নাও একটাকা। ছোকলা রেখে আমাকে কলা দাও!

♦ কৃপণের হাত
জয়নাল সাহেব বেজায় কৃপণ। একদিন তিনি গাড়িতে করে যাওয়ার সময় হঠাৎ বিশাল একটা ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে গেল। গাড়িটা দুমড়ে মুচড়ে গেলেও প্রাণে বাঁচলেন জয়নাল। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেখল, জয়নাল সাহেব গাড়ির পাশে বসে হাউমাউ করে কাঁদছেন, আর বলছেন, ‘আমার এত দামি গাড়িটার কী হলো গো…’
পুলিশ: আপনিতো ভাই অদ্ভুত লোক! গাড়ি না হয় গেছে, কিন্তু আপনার হাতটা যে ভেঙেছে, সে খেয়াল আছে?
এতক্ষণে হাতের দিকে খেয়াল হলো জয়নাল সাহেবের। এবার আরও জোরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন, আর বললেন, ‘ও খোদা গো! আমার এত সাধের দামি রোলেক্স ঘড়িটা…’

♦ আশাবাদী-নিরাশাবাদী-কৃপণ
আশাবাদীরা বলে, ‘গ্লাসটি অর্ধেক পানিতে পূর্ণ।’
নিরাশাবাদীরা বলে, ‘গ্লাসটি অর্ধেক খালি।’
কৃপণেরা বলে, ‘গ্লাসটি যতটুকু হওয়া উচিত ছিল, তার চেয়ে দ্বিগুণ বড়। কী দরকার ছিল এই বাড়তি খরচটুকু করার!’

♦ ঠান্ডা, না গরম?
হরিপদ বেজায় কৃপণ। একদিন তাঁর বাড়িতে হাজির হলেন তাঁর বন্ধু শশধর।
শশধর: কিরে হরিপদ, তোর বাড়িতে এলাম, কিছু খাওয়াবিনা?
হরিপদ: কী খেতে চাস, বল। ঠান্ডা, না গরম?
শশধর: নিয়ে আয়। ঠান্ডা গরম দুটাই খাব।
হরিপদ হাঁক ছাড়লেন, ‘কইরে জগাই, ফ্রিজ থেকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি আর চুলা থেকে এক গ্লাস গরম পানি নিয়ে আয়!’

Top