You are here
Home > সারাদেশ > রুয়েট নিয়ে প্রথম আলোর কান্ডজ্ঞানহীন প্রতিবেদনে তোলপাড়!

রুয়েট নিয়ে প্রথম আলোর কান্ডজ্ঞানহীন প্রতিবেদনে তোলপাড়!

রুয়েট নিয়ে প্রথম আলোর কান্ডজ্ঞানহীন প্রতিবেদনে তোলপাড়!

বুধবার ৪ জানুয়ারী, ২০১৭ ইং তারিখে রুয়েট নিয়ে প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে অনলাইন জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। “রুয়েটে চার বিভাগে কেউ ভর্তি হননি” এই শিরোনামে ভর্তি সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই রুয়েটের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

অসংলগ্ন প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) বুধবার ৩টার দিকে বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা প্রথম আলোর কয়েকটি কপি আগুনে পোড়ায়।

এদিকে প্রথম আলোর রাজশাহীর যে নিজস্ব প্রতিবেদক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন, ইতিমধ্যেই তার যোগ্যতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ভুলে ভরা ওই নিউজের শুরুর দিকে তিনি লিখেছেন ৩৫৭ টি আসন ফাকা, আর মাঝখানে লিখেছেন “চারটি বিভাগে কেউই ভর্তি হয়নি যার তিনটিতে ১২০ টি করে আসন আর একটিতে ৬০ টি আসন”। এর বাইরেও আরও সাত বিভাগে ৬৯ টি আসন ফাকা। তার ভাষ্যমতে হিসাব দাঁড়ায়ঃ ৩ x ১২০ = ৩৬০ + ৬০ + ৬৯ = ৪৮৯ টি সিট ফাকা। অথচ শুরুতে তিনি নিজেই লিখেছেন ৩৫৭ টি ফাকা।

কিন্তু আসল তথ্য হচ্ছে চারটি নয় বরং তিনটি বিভাগে কেউই ভর্তি হননি। আর সংখ্যার হিসেবেও ছিল গোলমাল। আসলে ফাঁকা আসনের সংখ্যাটি হবে ২১০।

প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবদেনটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন প্রাক্তন ছাত্র রুপম রাজ্জাক ব্রেকিংনিউজকে বলেন, আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি দেখে। এই প্রতিবেদনে রুয়েটকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যে কেউ শুধু শিরোনামটি দেখলে ভাববে, রুয়েটে কেউ ভর্তি হতে চায় না। অথচ বাস্তবতা পুরো ভিন্ন।

তিনি বলেন, আমার জানা মতে রুয়েট এ বছর আবেদনকারীদের ভেতর থেকে ৮৫০০ জনকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য বাছাই করেছিল, দৃশ্যতঃ যাদের সবাই এইচএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস পাওয়া ছাত্রছাত্রী (ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ ও ইংলিশে এ-প্লাস ধারীগনই আবেদন করতে পেরেছিল)। এদের মধ্য থেকে মাত্র ২৫০০ জন পাশ মার্ক তুলতে পেরেছিল, যেটা হয়তো রুয়েট কর্তৃপক্ষের ভাবনারও বাইরে ছিল। নিয়ম অনুযায়ী এই ২৫০০ জনের মধ্য থেকে ৮৭০ জনকে ভর্তি করাতে গিয়ে ২১০ টি সিট খালি থেকে গেছে। রুয়েট কর্তৃপক্ষ হয়তো পাশ মার্কের শর্ত শিথিল করে সিট পূরণ করতে পারত। কিন্তু এত এ-প্লাস পাওয়া ছাত্রছাত্রীর মাঝে মাত্র ২৫০০ জন পাশ করলে কিছুই করার থাকেনা। কারণ, দেশে শিক্ষার মানের যে অবনমন সেটার জন্য রুয়েট দায়ী নয়। তাই আমার মনে হয়েছে সিট খালি রেখেই ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করার সিদ্ধান্ত একটি অত্যধিক সাহসী সিদ্ধান্ত যা অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তবে সামনের বছরগুলোতে আরও বেশী আবেদনকারীকে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দিয়ে এ সমস্যার সমাধান করাই বাঞ্ছনীয় হবে।

স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে করা প্রতিবেদনটি সামান্যতম যাচাই বাছাই ছাড়া প্রথম আলোর মত পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়াটাকে খুবই দু:খজনক বলে মনে করেন তিনি।

Top