You are here
Home > জাতীয় > বিএনপির ইফতার নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা, নেতা নয় কর্মচারীরাই সামলাচ্ছেন সব

বিএনপির ইফতার নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা, নেতা নয় কর্মচারীরাই সামলাচ্ছেন সব

বিএনপির ইফতার নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা, নেতা নয় কর্মচারীরাই সামলাচ্ছেন সব

নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর অপতৎপরতায় এবারের রমজানকে উপলক্ষ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ইফতার অনুষ্ঠান ফিকে হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে নজিরবিহীনভাবে এবারের ইফতার অনুষ্ঠানে দলটির নেতাদের বাদ দিয়ে কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলও অবশ্য হাতেনাতে পেয়েছে দলটি এবং দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া।

রাজনীতিবিদ এবং পেশাজীবী নেতা ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেননি দেশের উল্লেখযোগ্য বিশিষ্ট নাগরিকরা। এর মধ্যে ১৪ ও ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলের নেতা, জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী, পেশাজীবী নেতা, বিশিষ্ট নাগরিক, ব্যবসায়ী, সমাজসেবী, শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, এনজিও ব্যক্তিত্ব, সাবেক বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক ও আইনজীবী নেতারা আসেননি খালেদা জিয়ার ইফতার মাহফিলে।

প্রথমে বিষয়টি গতানুগতিকভাবে সরকারের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চললেও, আস্তে আস্তে বেরুতে শুরু করেছে বিএনপির অভ্যন্তরের  তুঘলুঘি কারবার। জানা যাচ্ছে, একটি দলের প্রাণ তার নেতা-কর্মীরা হলেও বিএনপিতে সবচেয়ে সক্রিয় এবং শক্তিশালী হচ্ছে দলটির গুলশান ভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোট। তারা তাদের পছন্দের কয়েকজন বিতর্কিত নেতাদের নিয়েই সকল কর্মসূচী সম্পন্ন করতে চান। কমিটি গঠন থেকে শুরু করে দলীয় কর্মসূচীতে তাদের কর্মকান্ড আড়ালে থেকে গেলেও এবারের সামাজিক অনুষ্ঠানে তা প্রকট ভাবে সবার সামনে চলে এসেছে। আর বিষয়টি পরিনত হয়েছে টক অব দা টাউনে।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, “দা’য়ের থেকে আচাড় বলে হলে সেই দা দিয়ে কাজ করা যায় না”, তেমনি ভাবে যে দলে নেতাদের থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশী শক্তিশালী হয় সে দল ভালো করবে কিভাবে? তৃনমূল থেকে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারকে রহমানকে ধীরে ধীরে সরিয়ে ফেলার কাজটিও তারা অত্যন্ত সূচারুভাবে করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে সকল প্রটোকল ভেঙ্গে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে তৃনমূল ও দলীয় নেতাদের কাছে আসার। না হলে নেতাদের সাথে দুরুত্ব বাড়তে বাড়তে এক সময় তা শুধু সামাজিকতায় পরিনত হবে।

জানা গেছে, প্রতি বছর গুলশান কার্যালয় কর্মচারীরাই খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর সম্বলিত আমন্ত্রণ পত্র তালিকাভুক্ত অতিথিদের অফিস, বাসা বা চেম্বারে পৌঁছে দিয়ে আসেন। কিন্তু বিষয়টি সরাসরি তদারকি করেন দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতৃবৃন্দ। তাদের সাথে থাকে দলের অংগ-সংগঠের আরো বেশ কিছু নেতৃবৃন্দ। ফলে পুরো ব্যাপারটি একটি যৌথ টিম ওয়ার্কের অধীনে পরিচালিত হয়।

কিন্তু এ বছর দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন এ দায়িত্ব পালন করেছেন। আর পিছন থেকে পুরো বিষয়টি তদারকি করেছে গুলশানের ওই টিম। তাই স্বভাবতই খালেদা জিয়ার ইফতার মাহফিল নিয়ে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতা ও গুলশান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

খালেদা জিয়া আয়োজিত পৃথক চারটি ইফতার মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রি. জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউছুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন, এডভোকেট আহমেদ আযম খান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকেই ঘুরে ফিরে দেখা গেছে।

কিন্তু দলের আরো যারা আছেন-স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য-তাদেরকে খালেদা জিয়ার ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ইফতার নিয়ে বিএনপির এমন কান্ডে নেতাকর্মীদের অভিযোগ, যে দলে আজ নেতাদের এমন হাল সে দিল কিভাবে সমাজের সুশীল ব্যক্তিবর্গ আর গণমানুষের কাছে পৌঁছাবে তা ভাববার সময় এখনই। পুরো বিষয়টি আমলে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং তারেক রহমানকে এখনই কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে। না হলে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে দলটি ক্রমেই নেতা-কর্মী বিমুখ হয়ে পড়বে।

Top