You are here
Home > প্রতিক্রিয়া > বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজার স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজার স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব

রমজান-রোজা

মোঃ আরিফুর রহমান ফাহিম: প্রথমেই বলে নেই, আমি যে বিষয় নিয়ে গবেষণা করছি তা নিয়ে বর্তমানে পৃথিবীতে কয়েক হাজার গবেষক কাজ করছেন। বিষয়টি হচ্ছে-‘অটোফেগি’ বাংলায় যার অর্থ হচ্ছে-‘নিজেকে খেয়ে ফেলা’। বিষয়টি শুনতে ভয়ানক হলেও এটা শরীরের জন্য খুবই উপকারি কেননা এটা শরীরের আভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহকে পরিষ্কার করার একটা প্রক্রিয়া যা সম্পন্ন হয় কোষীয় পর্যায়ে। আমরা জানি, শরীরের বিভিন্ন কাজ করার জন্য প্রতিনিয়ত প্রোটিন তৈরি হয় এবং প্রোটিনের কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রোটিনের গঠনটি অ্যামিনো এসিড দ্বারা ত্রিমাত্রিক হতে হয়। যদি তা না হয় তবে প্রোটিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হতে এবং নানা রোগের সৃষ্টি করবে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০% প্রোটিন সঠিকভাবে সংশ্লেষ হতে পারেনা ফলে এদেরকে ধ্বংস করা, শরীর থেকে বের করে দেওয়া কিংবা অন্য উপায়ে কাজে লাগানো জরুরি কেননা শরীরে এরা থাকলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হবে। প্রশ্ন হল, কিভাবে ক্ষতিকারক প্রোটিনকে কাজে লাগানো যায়? আমাদের দেহ অটোফেগির মাধ্যমে এদের কাজে লাগায়। অটোফেগি প্রক্রিয়াটি আমাদের শরীর কে কার্যকরী করে রাখে, দুর্বল অঙ্গাণু থেকে মুক্তি দেয় এবং ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। শরীরে এ প্রক্রিয়া অনুপস্থিত থাকলে ক্যান্সার কিংবা নানাবিধ স্নায়ুবিক রোগ হতে পারে। এক কথায় বলা যায়, অটোফেগি রোগ প্রতিরোধ করে এবং আমাদের যৌবন ধরে রাখে। যখন শরীরে খাবারের সংকট তৈরি হয় তখন অটোফেগি প্রক্রিয়াটি চালু হয়। অর্থাৎ, অটোফেগি প্রক্রিয়াটিকে কার্যকর রাখতে হলে আমাদের নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে অথবা উপবাসে থাকতে হবে।

বিজ্ঞানীরা যদি উপবাসের অনেক উপকারিতা আপনার সামনে নিয়ে আসে তবুও আমরা খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারব কি? আমরা ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে পারিনা, তাহলে চিন্তা করে দেখুন! আল্লাহ কত দয়ালু, তিনি আমাদের জন্য রোজা ফরজ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ, সারা বছর ধরে মানুষের শরীরে জমে থাকা কতিপয় বিষাক্ত পদার্থ (টক্সিন), চর্বি ও আবর্জনা থেকে মুক্তি পাবার একমাত্র সহজ ও স্বাভাবিক উপায় হচ্ছে উপবাস। এক মাসের রোজার উপবাসের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরে দহনের সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থসমূহ দগ্ধীভূত হয়ে যায়।”

উল্লেখ্য যে, ‘রমজান’ শব্দটি আরবীর ‘রমজ’ ধাতু থেকে উৎপত্তি। এর অর্থ দহন করা, জ্বালিয়ে দেয়া ও পুঁড়িয়ে ফেলা। রোজার মাধ্যমে এভাবে জমে থাকা আবর্জনা ধ্বংস না হলে, ঐসব বিষাক্ত পদার্থ শরীরে বিভিন্ন রোগের জন্ম দিত। এ সম্পর্কে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, “ওয়া আনতা সুউমু খাইরুল লাকুম ইনকুনতুম তা’লামুন” অর্থাৎ তোমরা যদি রোজা রাখো তবে তাতে রয়েছে তোমাদের জন্য কল্যাণ, তোমরা যদি সেটা উপলব্ধি করতে পারো।” (সূরা বাকারাহ-১৮৪) আমরা কি কখনো উপলদ্ধি করি? এ আয়াতে আল্লাহ রোজা পালনের নানাবিধ কি কি কল্যাণের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন? আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের নিছক কষ্ট দেয়ার জন্যে ইহা ফরজ করেননি। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে অটোফেগি শব্দটি এসেছে ১৯৬২ সালে কিন্তু পবিত্র কুরআনে রোজার গুরুত্ব এসেছে অনেক আগে থেকেই। আমি এখানে রোজার স্বাস্থ্যগত দিক থকে ক্ষুদ্র একটি উপকারিতার কথা বর্ণনা করলাম। প্রকৃতপক্ষে, রোজার সীমাহীন এবং অফুরন্ত প্রতিদানের বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই অবহিত রয়েছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রোজা রাখার তৌফিক দিন এই কামনা করি।

লেখকঃ পিএইচডি গবেষক, শিজুওকা ইউনিভার্সিটি, জাপান

Top