You are here
Home > জাতীয় > সাঁড়াশি অভিযানের নামে গণহারে চাঁদাবাজি চলছে: খালেদা জিয়া

সাঁড়াশি অভিযানের নামে গণহারে চাঁদাবাজি চলছে: খালেদা জিয়া

সাঁড়াশি অভিযানের নামে গণহারে চাঁদাবাজি চলছে: খালেদা জিয়া

সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযানের নামে গণহারে চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, আটক করার পর অর্থ লেনদেন করে আবার ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। সাঁড়াশি অভিযানের নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই সরকার মুখে মুখে জঙ্গি দমনের কথা বললেও জঙ্গি চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। সাঁড়াশি অভিযানের নামে একদিকে চাঁদাবাজি এবং অন্যদিকে  গ্রেফতার বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার হলে (রাজদর্শন) অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত ইফতার পার্টিতে খালেদা জিয়া সরকারের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন। ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেন।

বিএনপি সমর্থিত প্রকৌশলীদের ইফতার পার্টিতে সংগঠনটির সাত শতাধিক প্রকৌশলী অংশ নেন। ইফতারের পূর্বে অতিথিদের টেবিল ঘুরে সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের প্রত্যেকের খোঁজ খবর নেন।

খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি বিদেশীদের আশ্বস্ত করতে চান এদেশে সন্ত্রাস দমন করবেন। সরকার কখনো সন্ত্রাস দমন করবে না। কারণ তারা সারাদেশে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়ে এখানে জঙ্গিদের উত্থান ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। সরকার প্রধান জেনে-বুঝেই এই কাজগুলো করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরিক জাসদের প্রতি ইংগিত করে খালেদা জিয়া বলেন,  তাদের (আওয়ামী লীগ) দলের মধ্যে আসল খুনিরা রয়েছে। তাদের দলে এমন সব লোক রয়েছে, তারা অনেক অভিজ্ঞ, অনেক আগে থেকেই তারা গুম-খুন করে এসেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এরাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলো। বিএনপির জন্মও তখন হয়নি। এই দলের লোকজন তখন আওয়ামী লীগের  লোকজনকে খুন করতো, গুম করতো। তাদের নেতার সম্পর্কে কী খারাপ ভাষায় বক্তব্য দিতো, যে খারাপ ভাষা ব্যবহার করতো, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতো, সেগুলোকে এখন শেখ হাসিনা ভূলে গিয়ে নিজের দলের লোকজনকে মুল্যায়ন না করে এই খুনি-অত্যাচারীদের মুল্যায়ন করছে। তার ফলেই দেশের এই অবস্থা হচ্ছে।

জঙ্গি দমনের নামে পুলিশের ‘সাড়াশি অভিযান’ সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, হাসিনা নিজেই বলেছেন, এই একটার পর একটা টার্গেট কিলিং হচ্ছে, মানুষ নিহত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পত্রিকা খুললে মৃত্যু আর মৃতু। এই মৃত্যু সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেছেন সব তথ্য জানে। তাহলে কোনো তাদের ধরা হচ্ছে না। এ্যাব এর কারাবন্দি সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানকে তিনবছর যাবত বিনা বিচারের আটক করে রাখা হয়েছে।

তিনি অবিলম্বে আটক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের নামের মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তির দাবি জানান। দেশে হারানো গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে এক টেবিলে ইফতারে অংশ নেন এ্যাব এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আনহ আখতার হোসেইন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হাছিন আহমেদ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন,  সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক সদরুল আমিন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের এজেডএম জাহিদ হোসেন, সম্মিলিতি পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক রুহুল আমিন গাজী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের আবদুল হাই শিকদার,  শিক্ষক-কর্মচারি ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া প্রমুখ।

এছাড়া প্রকৌশলীর মধ্যে মহসিন আলী, খন্দকার রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, শফিউল আলম তালুকদার, মিয়া  মো. ক্ইাউম, আবদুল হালিম মিঞা, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, জসিমউদ্দিন আহমেদসহ এ্যাব ৮ শতাধিক প্রকৌশলী ইফতারে অংশ নেন। বিএনপির আহমেদ আজম খান, রুহুল আলম চৌধুরী, ইসমাইল জবিউলল্গল্গাহ, জহুরুল ইসলাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, শাহ আবু জাফর, আনোয়ার হোসেইন, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, ২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির খন্দকার  গোলাম মূর্তাজা প্রমুখ।

Top