You are here
Home > কৌতুক > এবারের বিষয়: পুলিশি রঙ্গ

এবারের বিষয়: পুলিশি রঙ্গ

পুলিশি রঙ্গ

♦ আলুর বস্তায় আলু
পুলিশের তাড়া খেয়ে তিন চোর গিয়ে ঢুকল এক আলুর গুদামে। ঢুকেই তিনজন চটপট তিনটা আলুর বস্তার ভেতর ঢুকে পড়ল। এ সময় গেরস্তও এসে ঢুকলেন আলুর গুদামে। কী মনে করে যেন হাতের লাঠি দিয়ে একটা বস্তায় খোঁচা দিলেন।ভেতর থেকে শব্দ এলো, ‘ম্যাঁও’। ওরে, আলুর বস্তায় কখনো বিড়াল থাকে? বলেই গেরস্ত বস্তার ভেতর থেকে প্রথম চোরকে পাকড়াও করলেন। আরেকটা বস্তায় খোঁচা দিতেই ভেতর থেকে শব্দ এল, ‘ঘেউ ঘেউ!‘ওরে, আলুর বস্তায় কখনো কুকুর থাকে?’ বলেই গেরস্ত বস্তার ভেতর থেকে দ্বিতীয় চোরকে পাকড়াও করলেন।আরেকটা বস্তায় খোঁচা দিতেই এবার ভেতর থেকে শব্দ এল, ‘আলু, আলু’!

♦ লজ্জা
পুলিশ বলছে চোরকে,‘লজ্জা করে না তোমার? এই নিয়ে তৃতীয়বার তুমি থানায় এলে!’ চোর: স্যার, আমি তো মাত্র তৃতীয়বার, আপনি যে প্রতিদিনই আসেন!

♦ আমাকে বোকা পেয়েছ
চোর ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাতাসে পুলিশের টুপি উড়ে গেল। চোর: স্যার, আপনি অনুমতি দিলে আমি এক দৌড়ে আপনার টুপিটা এনে দিতে পারি। পুলিশ: আমাকে বোকা পেয়েছ? তুমি টুপি আনার নাম করে দৌড়ে পালাতে চাও, তা কি আমি বুঝি না ভেবেছ? চুপচাপ এখানে দাঁড়িয়ে থাকো, আমি টুপিটা নিয়ে আসছি!

♦ অপেক্ষা
প্রচণ্ড গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল এক ছিনতাইকারী। পথে ট্রাফিক পুলিশ তার পথ রোধ করে দাঁড়াল। ট্রাফিক পুলিশ: তোমার মতো বেয়াড়াদের ধরতেই দিনভর এখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করি, বুঝলে বাছাধন? ছিনতাইকারী: সে জন্যই তো যত দ্রুত সম্ভব আপনার কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করছিলাম!

♦ জেনেশুনে অপরাধ
তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে চড়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। কিছুদূর যাওয়ার পর ট্রাফিক তাদের থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ওঠা আইনত অপরাধ, এটা আপনারা জানেন না?’ ‘জানি’, জবাব দিল একজন। ট্রাফিক রেগে বলল, ‘জানেন তো একটি মোটরসাইকেলে তিনজন উঠেছেন কেন?’ ‘জেনেশুনে অপরাধ করব না বলেই তো আমাদের একজনকে বাসায় রেখে আসতে যাচ্ছি, স্যার।’

♦ ছবি তোলা
ছোট্ট মিতু গেছে গোয়েন্দাদের অফিসে। দেয়ালে ‘ওয়ান্টেড’-এর তালিকায় টাঙানো অপরাধীদের ছবি দেখে সে গোয়েন্দা অফিসারকে প্রশ্ন করল, ‘তোমরা কি সত্যিই ওদের গ্রেপ্তার করতে চাও?’
গোয়েন্দা: অবশ্যই।
মিতু: তাহলে ছবি তোলার সময়ই আটকে রাখলে না কেন?!

♦ দৌড় প্রতিযোগিতা
পাপ্পুর হাতে আইফোন দেখে তার বান্ধবী বলল, ‘কী সুন্দর মোবাইল! কত দিয়ে কিনলে?’
পাপ্পু: দৌড় প্রতিযোগিতায় জিতেছি।
বান্ধবী: ওয়াও! কতজন দৌড়েছিল?
পাপ্পু: তিনজন পুলিশ, এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী আর আমি।

♦ স্ত্রীকে ফেরত দিতে
মিনিট দশেক তাড়া করে গতিবিধি লঙ্ঘন করা এক ড্রাইভারকে থামাল ট্রাফিক পুলিশ, বলল, আমি থামতে বলা সত্ত্বেও কেন আপনি থামেননি? এক মুহূর্ত ভেবে নিয়ে ড্রাইভার বলল, আসলে হয়েছে কি, গত সপ্তাহে আমার স্ত্রী এক ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। তো আপনাকে আমার পেছনে ছুটতে দেখে মনে হলো, আমার স্ত্রীকে ফেরত দিতেই আপনি আমার পিছু নিয়েছেন।

♦ চেঁচামেচির যন্ত্রণা
এক বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। প্রতিবেশীর বাড়িতে অনুসন্ধানের কাজে গেছেন গোয়েন্দা।
গোয়েন্দা: গত রাতে পাশের বাসা থেকে আপনারা কোনো শব্দ শুনতে পেয়েছেন?
প্রতিবেশী: নাহ্! গোলাগুলি, চিৎকার আর ওদের কুকুরটার চেঁচামেচির যন্ত্রণায় কিছু শোনাই যাচ্ছিল না!

♦ গুলিস্তানের পকেটমার
গুলিস্তানের পকেটমারদের সুনাম শুনে এক লোক গুলিস্তানে এল ব্যাপারটা দেখার জন্য। সে বুক পকেটে একটা একশ টাকার নোট নিয়ে সারা গুলিস্তানে ঘুরে বেড়াতে লাগল। সারা দিন কেটে গেল কিন্তু কোনো খবর নেই। পকেটের টাকা পকেটেই পড়ে রইল। সন্ধ্যায় একটা পান দোকান থেকে পান কিনতে কিনতে দোকানদারকে বলল, কই গুলিস্তানের পকেটমাররা নাকি দেশের সেরা কিন্তু তার তো কোনো পরিচয় পেলাম না। একটু দূরে দাঁড়ানো এক ছেলে তখন বলল, জাল নোট নিয়ে ঘুরে বেড়ালে কে আপনার পকেট মারবে?

♦ পুলিশ, চোর ও ছিনতাইকারী
অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য একটা দ্বীপে বন্দি করে রাখা হতো। সেই দ্বীপের প্রবেশদ্বারে অপরাধী এক পুলিশ, এক চোর আর এক ছিনতাইকারীকে আটক করল দ্বীপের দারোয়ান।
দারোয়ান: এই দ্বীপে লোকসংখ্যা খুব বেশি হয়ে গেছে। তোমাদের তিনজনকে জায়গা দেওয়া সম্ভব না। আমি তোমাদের তিন জনকে একটা করে প্রশ্ন করব। যে সঠিক উত্তর দিতে পারবে না, শুধু তাকেই দ্বীপে যেতে হবে। বাকিরা আপাতত বাইরেই থাকবে।
দারোয়ানের কথা শুনে পুলিশ, চোর ও ছিনতাইকারীর মনে আশার সঞ্চার হলো।
দারোয়ান: প্রথম প্রশ্ন করব ছিনতাইকারীকে। বলো তো, সবচেয়ে বেশিসংখ্যক যাত্রী নিয়ে কোন জাহাজ ডুবে গিয়েছিল?
ছিনতাইকারী: টাইটানিক।
দারোয়ান: উত্তর সঠিক। এবার চোর, তুমি বলো। জাহাজটিতে যাত্রীর সংখ্যা কত ছিল?
চোর: আমি টাইটানিক ছবিটা দেখেছি। যত দূর মনে পড়ে, যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৪৪৫৬।
দারোয়ান: উত্তর সঠিক। এবার পুলিশের পালা।
পুলিশকে প্রশ্ন করার আগেই সে ডুকরে কেঁদে উঠল।
দারোয়ান: কাঁদছ কেন?
পুলিশ: আমি তাদের সবার নাম বলতে পারব না!

Top