You are here
Home > খেলা > তামিমের আচরণে ‘অপমানে’ খেলা বন্ধ করে দিলেন আম্পায়াররা

তামিমের আচরণে ‘অপমানে’ খেলা বন্ধ করে দিলেন আম্পায়াররা

তামিম ইকবাল

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের সুপার সিক্সের ম্যাচে বিতর্কিত ঘটনার কারণে আবারো আলোচনায় এসেছেন ঢাকা আবাহনীর অধিনায়ক এবং জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। ম্যাচ চলার সময় তার বাজে আচরণের কারণে আম্পায়াররা মাঠ ছেড়ে গেছেন গাজী সোহল ও তানভীর আহমেদ।

লিগ কমিটি অবশ্য বলেছে, আম্পায়ার অসুস্থ হয়ে পড়ায় খেলা শেষ করা যায়নি।

সুপার লিগের প্রথম রাউন্ডে সাভারের বিকেএসপিতে টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে আবাহনী প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে ১৯১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১৭ ওভারে ৫৯ রান তুলে বেশ ভালোই এগুতে থাকে প্রাইম দোলেশ্বর। তবে বিতর্কের জন্ম হয় ১৬তম ওভারে। সাকলায়েন সজীবের করা ওভারের চতুর্থ বলে এগিয়ে মারতে গিয়ে স্ট্যাম্পড হন রকিবুল হাসান! আবাহনী শিবির আউটের আবেদন করলেও আম্পায়ার তানভীর আহমেদ সাড়া দেননি। ফলাফল আম্পায়ারের উপর চড়াও হন তামিম ইকবালসহ সব ফিল্ডাররা। বাইরে থেকে আবাহনীর সমর্থকরা গালমন্দ করতে থাকেই। তামিম ইকবাল আম্পায়ারদের উদ্দেশে অশালীন শব্দও ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এরপর ৮ বল খেলা চলে। তবুও মুখ বন্ধ থাকেনি আবাহনীর খেলোয়াড় ও সমর্থকদের। মাঠে উপস্থিত থাকা আবাহনীর কর্মকর্তারাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ১৭তম ওভারে অমিত কুমারের বলে রকিবুল হাসান ছক্কা মারার পর আবারও আম্পায়ারদের উপর চড়াও হন আবাহনীর খেলোয়াড়রা। নেতৃত্বে ছিলেন তামিম ইকবাল। বাকবিতণ্ডা চলতে থাকে আম্পায়ার ও আবাহনীর খেলোয়াড়দের মধ্যে। প্রাইম দোলেশ্বরের দুই ব্যাটসম্যান পরিস্থিতি সামলে নিয়ে আসতে চাইলেও ওভার শেষে মাঠের দুই আম্পায়ার ম্যাচ রেফারিকে ডাক দিয়ে জানান,‘এভাবে খেলা চালানো সম্ভব না।’

এরপর মাঠ ত্যাগ করেন দুই আম্পায়ার। আবাহনীর ফিল্ডাররা অবশ্য মাঠেই ছিলেন। ম্যাচ রেফারীর রুমে বৈঠকে বসেন দুই অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও ফরহাদ রেজা। স্বল্প সময়ের বৈঠক শেষে তামিম রুম থেকে বের হয়ে সতীর্থদের উদ্দেশ্য করে বলেন,‘সবাই ড্রেসিং রুমে চলে আয়। আজ আর খেলা হবে না।’

খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ম্যাচ রেফারীও কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে আসেন। সরাসরি বলতে না চাইলেও হাঁটতে হাঁটতে ম্যাচ রেফারী মন্টু দত্ত বলেন,‘আম্পায়াররা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই খেলা চালানো সম্ভব না। সিসিডিএমকে জানানো হয়েছে। এ ম্যাচের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিবে।’

কিছুক্ষণ পর আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন,‘দুই দলের খেলোয়াড়রা খেলতে চেয়েছিল। কিন্তু আম্পায়াররা ম্যাচ পরিচালনা করতে রাজী ছিলো না। এরকম এর আগে কখনো দেখিনি। এটা হতাশাজনক। আসলে মাঠে কিছু করলে শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের শাস্তি হয়। তাদের শাস্তি হয়না বলে তারা এরকম বিতর্কিত কাজ করার প্রশ্রয় পায়।’

এদিকে প্রাইম দোলেশ্বরের কোচ মিজানুর রহমান বাবুল জানালেন ভিন্ন কথা। বিতর্কিত কাণ্ডে সময় নষ্ট হওয়ায় প্রাইম দোলেশ্বরকে ৩৪ ওভারে ১৬০ রানের টার্গেট দেওয়ার কথা জানায় ম্যাচ রেফারি। কিন্তু নতুন টার্গেটে খেলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন ফরহাদ রেজা।

বিতর্ক কম হলো না দেশের একমাত্র লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে। সুপার লিগ শুরু হলো বিতর্ক দিয়ে! আবাহনী-প্রাইম দোলেশ্বরের নাটকের সিদ্ধান্ত এখন বিসিবি ও সিসিডিএমের কোর্টে! এদিকে সিসিডিএমের সদস্য সচিব রাকিব হায়দার পাভেল সিসিডিএমের কাছে ম্যাচটির সিদ্ধান্ত তুলে দেওয়ায় কিছুটা বিব্রত। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ম্যাচ রেফারি সিসিডিএমের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার ম্যাচ রেফারির রয়েছে। কিন্তু কেনো ম্যাচ রেফারি এটা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে? এটা আমার বোধগম্য নয়!’

Top