You are here
Home > জাতীয় > ২০ কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

২০ কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

ওষুধ

মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন না করায় আগামী সাত দিনের মধ্যে ২০টি ওষুধ কোম্পানির উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে ১৪টি ঔষধ কোম্পানির এন্টিবায়োটিক বন্ধেরও নির্দেশ দেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সাথে এই ৩৪টি ঔষধ কোম্পানির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়েও রুল জারি করেছেন আদালত।

এ সময় রিটকারী আইনজীবী জানান, সরকারের নির্দেশে গঠিত পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি এসব ওষুধ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ করলেও তা বাতিল না করায় এই রিট দায়ের করা হয়।

রিটে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ভেজাল এবং নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়। এই কমিটির প্রধান করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবম ফারুককে। উক্ত তদন্ত কমিটি দেশের ৮৪টি ওষুধ কারখানা পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিলো নতুন ১৫টি এবং পুরনো ৬৯টি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১ ফেব্রুয়ারি কমিটি তাদের প্রতিবেদন সংসদীয় কমিটির কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদন দাখিলের পর চার মাস পেরিয়ে গেলেও ২০টি কোম্পানির ঔষুধ উৎপাদন ও লাইসেন্স বাতিলের জন্য সুপারিশ করে।

এসব কোম্পানি হচ্ছে, এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যাল, এভার্ট ফার্মা, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যাল, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যাল, ড্রাগল্যান্ড লি., গ্লোব ল্যাবরেটরিজ, জলপা ল্যাবরেটরিজ, কাফমা ফার্মাসিউটিক্যাল, মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যাল, ন্যাশনাল ড্রাগ, নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যাল, রিমো কেমিক্যাল, রিদ ফার্মাসিউটিক্যাল, স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যাল, স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টার ফার্মাসিউটিক্যাল, সুনিপুণ ফার্মাসিউটিক্যাল, টুডে ফার্মাসিউটিক্যাল, ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড।

রিটে বলা হয়, বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতে বলা হয়েছে, এসব কোম্পানির কারখানা জিএমপি নীতিমালা অনুসরণ করে মানসম্পন্ন ঔষুধ উত্পাদনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ ঔষুধ উত্পাদনকালে জিএমপি নীতিমালা অনুসরণ না করলে উৎপাদিত ঔষুধ মান সম্পন্ন হয় না। ফলে ব্যবহারকারীর অসুখ না সেরে বরং শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। যার কারণে প্রাণহানি ঘটতে পারে। তাই এসব ঔষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য সার্বিক বিবেচনায় পরিত্যাজ্য। বিশেষজ্ঞ কমিটির এই মতামত দেয়ার পরেও আজ পর্যন্ত সরকার এসব কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে মানহীন ঔষুধ ব্যবহারের কারণে নাগরিকের প্রাণহানির সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে গেছে।

Top