You are here
Home > প্রতিক্রিয়া > ম্যাডাম অসহায়, বিএনপি দিশেহারা

ম্যাডাম অসহায়, বিএনপি দিশেহারা

ম্যাডাম অসহায়

মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান: ম্যাডামকে অসহায় ছাড়া কী বলার আছে? বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন সমাপ্ত হয়েছে। অনেকে মনে করেন বিএনপির এবারের সম্মেলন সফল। তাই যদি হয় তাহলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কি সদ্য সমাপ্ত সম্মেলনের সফলতার কৃতিত্বের ভাগীদার নন? স্থায়ী কমিটির সন্মানিত অন্যতম সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেনের ভাষ্যমতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত সম্মেলনের পূর্বেই নেয়া হয়েছে, যা ম্যাডাম যথাসময়ে ঘোষণা করবেন। অথচ সম্মেলনের পরে ৪৮ ঘণ্টা চলে গেল। কিন্তু মহাসচিবের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জাতি পেল না। তাহলে কোন শক্তির ইশারায় বা কাদের চাপের মুখে সম্মেলনের ৪৮ ঘণ্টা চলে যাওয়ার পরেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারমুক্ত করে পূর্ণ মহাসচিব ঘোষণা ম্যাডাম দিতে পারলেন না?

নাকি পর্দার আড়ালে অন্য কোনো অপশক্তি এই সম্মেলনের ব্যবস্থা করে দিয়ে ম্যাডাম ও তারেক রহমানকে বিএনপির নেতৃত্বে বহাল রেখেছে! তাই তাদের নির্দেশ-আদেশ ছাড়া ম্যাডামের কিছুই আজ করার নাই! নাহলে মির্জা ফখরুলের ভারমুক্তির ঘোষণা ম্যাডাম কেন এখনো দিতে পারছেন না ? এতেই কি প্রমাণিত হয় না ম্যাডাম একটি অপশক্তির হাতে বন্দী এবং এখন তিনি অসহায়!

ম্যাডাম ও তারেক রহমান বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিএনপির কাণ্ডারি। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী জনগণ ম্যাডাম ও তারেক রহমানের বাইরে কোনো নেতা মানে না। এটা কোনো চাটুকারের উক্তি নয়- এটি হলো চরম বাস্তবতা। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ম্যাডাম ও তারেক রহমান ভালো কোনো নেতা নন। কিন্তু তাদের বাইরে আমার চোখে ম্যাডাম ও তারেক রহমানের চাইতে ভালো অন্য কোনো নেতা আমাদের দেশে নেই। আমরা সবাই তাদেরকে ভালোবাসি এবং দিনের শেষে একমাত্র তাদের নির্দেশই পালন করি। বিএনপির সব নেতাকর্মী একমাত্র ম্যাডাম ও তারেক রহমানের ভক্ত। ম্যাডাম ও তারেক রহমানের জন্য বা তাদের নির্দেশে সর্বদা জীবন দিতে প্রস্তুত। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে ম্যাডাম ও তারেক রহমানকে ঘিরে থাকা শয়তানদের নিয়ে। সমস্যা হচ্ছে ম্যাডাম ও তারেক রহমানের নির্দেশ, আদেশ বা কর্মসূচি কাদের বা কার মাধ্যমে কর্মীদের কাছে পাঠানো হচ্ছে?

ম্যাডাম ও তারেকের চারপাশে ওরা কারা? শিমুল বিশ্বাস বিএনপির কোন সারির নেতা? দলের গঠনতন্ত্রে শিমুল বিশ্বাসের অবস্থান কী? ব্যক্তিগত চাকরের সাংগঠনিক বা জাতিয় বিষয়ে ম্যাডামের অবস্থান বা বক্তব্য কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে নেতা কর্মীদের হাজারো প্রশ্ন। তেমনি নেতাকর্মীদের কাছে শত সহস্র প্রশ্ন বাংলাদেশ থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা বা যোগাযোগ কারা রাখছে? তারেক রহমান লন্ডনে কাদেরকে নিয়ে দেশ ও দলের জন্য ভাবছেন এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে এদের অবস্থান কী? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দলের নেতাকর্মীরা দিশেহারা। দলের নেতাকর্মী ও জনগণ সবাই ম্যাডামকে বা তারেক রহমানকে সামনে চায়, নাহলে তারেক স্ত্রী অথবা তার কন্যা সায়েমাকে সামনে চায়। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে ম্যাডামের সত্যিকার প্রতিনিধিত্ব করে এমন একজন গ্রহণযোগ্য নেতাকে দল ও ম্যাডামের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি চায়। ম্যাডাম ও দলের বিশ্বস্ত হিসেবে মহাসচিবকে সে দায়িত্ব দিলে দল তাকে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির সবচেয়ে নির্যাতিত ও অপদস্থ নেতা। একদিক দিয়ে সরকার তার ওপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে। মাসের পর মাস তার ওপর জেলজুলুম চালাচ্ছে। অন্যদিক দিয়ে তার নিজের দল তার প্রাপ্য সন্মানটুকু না দিয়ে জনসম্মুখে তাকে বছরের পর বছর ধরে হেয় করে রাখছে। আসলে আমরা সত্যিকার অর্থে ফখরুলকে হেয় করছি না- হেয় করছি নিজেদেরকে। জনগণের সামনে আমরা আমাদের প্রকৃত রূপটাই তুলে ধরছি বলে সচেতন দেশবাসী মনে করে। মির্জা ফখরুলের হারানোর কোনো ভয় নেই। দেশপ্রেমিক জনগণ ফখরুলের সঙ্গে আছে। জয় তার হবেই।

পরিশেষে বলবো, ম্যাডাম নিজে বাঁচুন, তারেককে বাঁচান এবং দেশের জনগণকে বাঁচান। আপনার চারিপাশে বিষাক্ত নাগ-নাগিনীরা শ্বাস ফেলছে। পরিণাম হয়তো আপনি দেখতে পারবেন না, কিন্তু আপনার জন্য জাতি কাঁদবে।

ম্যাডাম, আপনার মুক্তি নাই। পরিণতি আপনার নির্ধারিত হয়ে গেছে। এখন বাঁচতে হলে আপনাকে মরতে হবে এবং মরতে হলে এই নাগপাশ থেকে আপনাকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাহলেই আপনি বাঁচবেন এবং মুক্ত হবেন।

লেখক: সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য।

Top