You are here
Home > আন্তর্জাতিক > প্রোডিক্যালে শেখানো হয় রান্না, পানি আর H2O-র পার্থক্য জানি না!

প্রোডিক্যালে শেখানো হয় রান্না, পানি আর H2O-র পার্থক্য জানি না!

প্রোডিক্যালে শেখানো হয় রান্না, পানি আর H2O-র উত্তর জানি না

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া কজন শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা দিবস কবে? জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা কে? নেপালের রাজধানী কী? অপারেশন সার্চলাইট মানে কী? এ জাতীয় কিছু প্রশ্নের ‘হাস্যকর’ উত্তর দেয়। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

কেউ কেউ প্রতিবেদনের পক্ষ নিয়ে বলছেন, ‘হায় শিক্ষা ব্যবস্থা’! আবার কেউ কেউ এর বিপক্ষেও বলছেন যে, প্রতিবেদনে বাছাই করে কজন শিক্ষার্থী নেয়া হয়েছে। এ কজন শিক্ষার্থী দিয়ে সবাইকে বিচার করা ঠিক না। জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা সবাই এত দুর্বল, তাও না। তবে যে যাই বলুক, শিক্ষার গুণগত মানের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছে স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী নিজেই।

অবশ্য তার জন্য একটু সুখবরও আছে। শুধু আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাই এমন, প্রায় একই রকম আমাদের পাশের দেশ ভারতেও। দেশটির বেশ কয়েকজন ‘মেধাবী’কে (যারা নাকি টপার) সাধারণ কিছু প্রশ্ন করা হলে, তারাও হাস্যকর উত্তর দেয়।

সম্প্রতি বিহার রাজ্যে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে। আর্টস থেকে প্রথম হয়েছে বছর রুবি রাই। ৫০০-র মধ্যে ৪৪৪ নম্বর পেয়েছে সে। এরপর দেশটির জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি তার সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় কিছু প্রশ্ন করে। তাতেই সে যা উত্তর দিয়েছে, তাতে আপনার মাথার চুল আপনিই ছিঁড়বেন। কারণ আমাদের দেশের ছেলেরা তো অনেক ভালো উত্তর দিয়েছে!

প্রশ্ন উঠেছে পরীক্ষাব্যবস্থার হাল নিয়ে। কারণ পলিটিক্যাল সায়েন্স কথাটাই ভালো করে বলতে পারেনি আর্টস স্ট্রিমের ফার্স্ট গার্ল। বলেছে- প্রোডিক্যাল সায়েন্স। সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল প্রোডিক্যাল সায়েন্সটা কী? খানিক ভেবে রুবির উত্তর- রান্নাবান্না শেখানো হয় প্রোডিক্যাল সায়েন্সে!

সায়েন্স প্রথম সৌরভ শ্রেষ্ঠা, তারও একই হাল। ৫০০ নম্বরের মধ্যে সে পেয়েছে ৪৮৫। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, পিরিয়ডিক টেবলে মোস্ট রিঅ্যাক্টিভ এলিমেন্ট কোনটি? সৌরভের উত্তর- অ্যালুমিনিয়াম। শুধু তাই নয়, পানি আর H2O-র মধ্যে পার্থক্য কোথায়? বুদ্ধি করে এমন প্রশ্নই করেছিলেন সাংবাদিক। মাথা চুলকে চুল ছিঁড়ে ফেলার জোগাড় তার। অবশেষে সে জানালো- জানি না।

এই প্রশ্নোত্তর পর্ব সামনে আসার পর তুমুল হইচই। টপারদের যদি এ হাল হয়, তাহলে অন্যদের কী অবস্থা? এ বিষয়ে অবশ্য নিজেদের দায় সেরেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। তারা ঠিক করেছে, ওই দুই শিক্ষার্থীর নতুন করে পরীক্ষা নেয়া হবে!

আর শিক্ষামন্ত্রী অশোক চৌধুরী তো উত্তর দিয়েছেন আরো হাস্যকর। তিনি বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে ওই দু’জন নকল করে পাস করেছে। নয়তো উত্তরপত্র বদলে দেয়া হয়েছে।’ বাহ্, নকল করে একেবারে ফার্স্ট গার্ল, ফার্স্ট বয়!

Top