You are here
Home > সারাদেশ > অনিয়ম করতে রাজি না হওয়ায় নিবার্চন কর্মকর্তাকে বেধড়ক পেটালেন এমপি

অনিয়ম করতে রাজি না হওয়ায় নিবার্চন কর্মকর্তাকে বেধড়ক পেটালেন এমপি

নির্বাচনে অনিয়ম করতে রাজি না হওয়ায় নিবার্চন কর্মকর্তাকে বেধড়ক পেটালেন এমপি

পছন্দের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা না পেয়ে উপজেলা নিবার্চন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে পিটিয়ে বাঁশখালী ছাড়তে বাধ্য করেছেন স্থানীয় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য  মোস্তাফিজুর রহমান। মারধরের শিকার জাহিদুল ইসলাম প্রাণভয়ে বাঁশখালী ছেড়ে এসে বর্তমানে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে আশ্রয় নিয়েছেন।

বুধবার বেলা ২টার দিকে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেন একাধিক নির্বাচন কর্মকর্তা। আহত নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুলকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন জাহিদুল ইসলাম।  তিনি জানান, সংসদ সদস্যের পিএস তাজুল ইসলাম তাকে একটি তালিকা দিয়েছিলেন।  সেই তালিকা অনুযায়ী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের জন্য এমপি নির্দেশ দিয়েছেন বলে তাজুল তাকে জানিয়েছিলেন।

‘ওই তালিকা অনুযায়ী আমি প্রিজাইডিং ও পোলিং ‍অফিসার নিয়োগ না দেয়ায় তারা আমার উপর অসন্তুষ্ট হন। আজ (বুধবার ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আমি বাহারছড়া ইউনিয়নে ছিলাম। এমপি সাহেব আমাকে ইউএনওর কার্যালয়ে ডেকে পাঠান।  আমি সেখানে গেলে তিনি শুরুতেই উত্তেজিতভাবে আমাকে বলেন, অ্যাই…….(ছাপার অযোগ্য গালি) আমি যাদের দায়িত্ব দিতে বলেছিলাম, তাদের তালিকায় রাখিসনি কেন ? আমি বললাম, স্যার, আমি নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কাজ করেছি।  এসময় তিনি বলেন, অ্যাই তোরা কোথায় ? ………(ছাপার অযোগ্য গালি) মারতে হবে। ‘

‘তখন এমপি নিজেই আমাকে …… (ছাপার অযোগ্য গালি), মা-বাবা ধরে গালি দিয়ে আমাকে চড়-থাপ্পড় দিতে থাকেন।  আমি বলি, স্যার আপনি আমার গায়ে হাত দিতে পারেন না।  তখন তার সন্ত্রাসীরা এসে আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি দিতে শুরু করে।  এসময় সেখানে বাঁশখালী থানার একজন এস আই ছিলেন।  তিনি কোন বাধা দেননি।  আমি স্যারকে (আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) ফোন করার জন্য পকেট থেকে মোবাইল বের করলে পুলিশ কর্মকর্তা সেটি আমার কাছ থেকে কেড়ে নেন। ’

‘পরে এমপি সাহেব আমাকে বাঁশখালী ছেড়ে না গেলে মেরে ফেলার হুমকি দেন।  আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দ্রুত শহরে চলে এসেছি। ’

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে জাল ভোট দেয়া ব্যালট পেপার গ্রহণ না করাকে কেন্দ্র করে এমপি মোস্তাফিজুর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামানের সঙ্গে বিরোধ ছিল জাহিদুল ইসলামের।

এর মধ্যে ষষ্ঠ ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউপি নির্বাচনে এমপি মোস্তাফিজুরের কথামতো পছন্দের কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব দিতে অস্বীকার করেন নির্বাচন কর্মকর্মা জাহিদুল। এমপির সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট হিসেবেও নিয়োগ দিতে রাজি হননি তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এমপি প্রথমে নির্বাচন কর্মকর্তার শার্টের কলার ধরে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে কিলঘুষি মারতে শুরু করেন। এ সময় সঙ্গে থাকা এমপির অনুসারীরা মারধরে যোগ দেন। তারা তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করেন।

মারপিট করে সঙ্গীদের নিয়ে এমপি চলে গেলে নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জাহিদুলকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

জাহিদুলকে মারধরের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেন। তিনি জানান,  এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ও তার অনুসারীরা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। এ ব্যাপারে ঢাকার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Top