You are here
Home > প্রতিক্রিয়া > তনু মেরুদণ্ডহীন জাতির আরেকটি পরাজয়ের নাম

তনু মেরুদণ্ডহীন জাতির আরেকটি পরাজয়ের নাম

তনু মেরুদণ্ডহীন জাতির আরেকটি পরাজয়ের নাম

আম্লান কিশোর মুন: সোহাগী জাহান তনু। আমাদের মেরুদণ্ডহীন জাতির আরেকটি পরাজয়ের নাম। (Shohagi Jahan Tonu, The another Defeat of our Back-boneless Nation)

সোহাগী জাহান তনু, এই নামটির সাথে আমার কখনও পরিচয় ছিল না। পথে চলতে যেয়ে তার সাথে আমার কখনও সামান্য সময়ের জন্য দেখাও হয়নি। কখনো এই নাম শুনেছি বলে মনেও পড়ে না।

কিন্তু আজ এই নামটি আমার কাছে, অনেকের কাছেই বড্ড বেশি পরিচিত। এই নামটি আজ আমাদের কিছু না বলেও অনেক কিছু বলে দেয়। এই নামটি বলে দেয় আমাদের অসহায়ত্বের কথা। বলে দেয় আমাদের মা, বোন কিংবা প্রিয় মানুষটির নিরাপত্তাহীনতার কথা। আমাদের উপলব্ধি করায়, আমাদের জন্য এই সমাজের কোনও জায়গাই নিরাপদ নয়।

কেননা, সোহাগী জাহান তনুর সাথে যে স্থানে ঘটনাটি ঘটছে, সেটা এই দেশের নিরাপদ জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেখানের মানুষজনের চলাফেরা আর আমাদের সাধারণ মানুষের চলাফেরার মাঝে বিস্তর ফারাক। এই সমাজে আমরা যতটাই অনিরাপদ, সেখানকার মানুষ ততটাই নিরাপদ। তবুও এত সুরক্ষিত এলাকায়ও তনুর সাথে এমন একটা অমানবিক ঘটনা ঘটল। যেখানে সেনানিবাসের মতো সুরক্ষিত এলাকায় একটা মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়। আমাদের দেখতে হল তনুর অপ্রত্যাশিত চলে যাওয়া।

বিচারহীনতার সংস্কৃতির এই দেশে বিচার তো আমরা সকল সময়েই চেয়ে থাকি, তবু বিচার পাই না। আমরা সব কিছুই মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তাই আমাদের কাছের মানুষটির কোনও ক্ষতির জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। কিন্তু এটা মেনে নেয়া আমাদের আরও বেশি অনিরাপদ করে তুলবে।

আজ সবখানেই নারী জাতির সম্ভ্রমহানীর মহোৎসবে মেতে উঠেছে কিছু মানুষ আকৃতির হিংস্র পশু। কিন্তু এমন সমাজ আমি চাই না। এই সমাজকে এখন বড্ড বেশি ভয় হয়। এই ভয় শুধুই আমার না, এই ভয় সবার। যারা একটু খানি নিরপত্তা চান।

মেয়েটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বড় হতে চেয়েছিল। এগুতে হচ্ছিল লড়াই করে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। নির্মম সত্য হলো এখন লিখতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ছিলেন। টিউশনি করে এগিয়ে নিচ্ছিল নিজের পড়ালেখা। বরিববার সন্ধ্যায় অলিপুর এলাকায় প্রাইভেট পড়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়। না সে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত ১১টার দিকে তার লাশ পাওয়া যায় কুমিল্লা সেনাবাহিনীর আবাসিক এলকায়।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুনের ভাষ্য, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং মাথার কিছু ছেঁড়া চুল লাশের পাশে পড়েছিল। তাকে ধর্ষণের পর নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সুতরাং আপনি আপনার নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন। আজ তনুর সম্ভ্রম নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, কাল যে আপনার পরিচিত কারও সাথে হবে না বুকে হাত দিয়ে সেই গ্যারান্টি কি দিতে পারবেন ?

(লেখক: সমাজকর্মী।)

Top