You are here
Home > সারাদেশ > এবার ধামরাইয়ে বর্বরতম ভাবে লাঞ্ছিত হলেন প্রধান শিক্ষিকা

এবার ধামরাইয়ে বর্বরতম ভাবে লাঞ্ছিত হলেন প্রধান শিক্ষিকা

এবার ধামরাইয়ে বর্বরতম ভাবে লাঞ্ছিত হলেন প্রধান শিক্ষিকা

নারায়ণগঞ্জে এমপি সেলিম ওসমান কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় যখন উত্তার পুরো দেশ, তখন আরও একজন শিক্ষকা লাঞ্ছিত হয়েছে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির হাতে।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল (১৮ মে) বধুবার ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১১নং পশ্চিম সূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে টয়লেট থেকে বের করে এনে মারধর করে ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওই শিক্ষিকা।

স্কুলটির অন্যান্য শিক্ষিকরা জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষিকা মোছা. ফৌজিয়া ইয়াসমিন অফিস কক্ষ পরিবর্তন করার পর এ নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা কানিস নাসিমা ও সহকারি শিক্ষক আক্তার হোসেনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি চলছিল। এক পর্যায়ে গতকাল (বুধবার) বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ ফজলুল হক ও সহ-সভাপতি আবদুল মালেককে তারা ডেকে নিয়ে আসেন।

তারা জানান, স্কুলে এসে আবদুল মালেক প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক সময় অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন প্রধান শিক্ষিকাকে।

এর প্রতিবাদ করলে উত্তেজিত হয়ে তাকে মারতে যান আবদুল মালেক। এ পর্যায়ে ভয়ে আত্মরক্ষার্থে ফৌজিয়া ইয়াসমীন দৌড়ে বিদ্যালয়ের টয়লেটের ভিতরে যান। সেখান থেকে তাকে টেনে হিচড়ে বের করে ওই শিক্ষিকাকে মারধর করতে থাকেন আবদুল মালেক। এতে সহযোগিতা করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেন ও কানিস নাসিমা। এক সময় ওই শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। এ ঘটনায় ফৌজিয়া ইয়াসমীন জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

এ বিষয়ে ফৌজিয়া ইয়াসমীন বলেন, অফিস কক্ষ পরিবর্তন করায় তাকে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করার এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারতে আসে। আমি ভয়ে টয়লেটে গিয়ে আশ্রয় নেই। সেখান থেকে সহকারী শিক্ষিকা কানিস নাছিমা ও সহকারি শিক্ষক আক্তার হোসেনের সহযোগিতায় টেনে হিচড়ে বের করে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে আবদুল মালেক।

এদিকে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষিকা কানিস নাছিমা ও সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষিকা কারো সঙ্গে পরামর্শ না করে নিজের একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের কাজকর্ম করে থাকেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে তর্ক হয়েছে, তাকে মারধর করা হয়নি।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আবদুল মালেক জানান, প্রধান শিক্ষিকা কারো সঙ্গে পরামর্শ না করে তার একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের সকল কাজ করে থাকেন। তিনি ঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন না। প্রতিদিন ঢাকা থেকে যাতায়াত করে থাকেন। তবে শিক্ষিকাকে মারপিটের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, তিনিই আমাকে জুতা নিয়ে মারতে আসেন।

তিনি আরো বলেন, টয়লেটের ভিতর থেকে বের করে আনার সময় হয়তো তিনি (প্রধান শিক্ষিকা) হাতে ব্যথা পেয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষিকাকে মারধরও লাঞ্ছিতের ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Top