You are here
Home > জাতীয় > যুবদলের আসন্ন কমিটিতে টুকু আতংকে নেতা-কর্মীরা

যুবদলের আসন্ন কমিটিতে টুকু আতংকে নেতা-কর্মীরা

যুবদল

শোনা যাচ্ছে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বিএনপির শক্তিশালী অঙ্গ-সংগঠন যুবদলের কমিটি। আর সেই কমিটিতে পদায়তন হতে পারেন এমন একজন নেতার নাম নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে গুঞ্জন। এ সবের পিছনে ভূমিকা রাখছে ওই নেতার অতীত কর্মকান্ড।

যুবদলের সভাপতির পদে আপাতত দুই জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে একজন হচ্ছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব আর আরেকজন হচ্ছেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

কিন্তু সাধারণ সম্পাদক হিসেবে  যুবদলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজ্জামেল হক, যুবদলের প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, যুবদল উত্তরের সভাপতি মামুন হাসানের নাম শোনা গেলেও পদটি পেতে মরিয়া হয়ে তদবির চালাচ্ছেন বিএনপির সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তার অনুসারীরা ইতিমধ্যে বলেও বেড়াচ্ছেন যে, এই পদটি তিনিই পেতে যাচ্ছেন।

এ খবরে চাপা গুঞ্জন আর অস্বস্থি তৈরি হয়েছে যুবদলের অন্দর মহলে। কারন ছাত্রদলের সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদে আসীন থেকে উনি ছাত্রদল নিয়ে যে বিতর্কিত কর্মকান্ড করেছেন, তা-ই ভাবাচ্ছে সবাইকে।

ভাই আবদুস সালাম পিন্টুর রাজনৈতিক অর্জনকে পুজিঁ বানিয়ে বিতর্কীত হওয়ার পরও বিএনপিতে পদ ধরে রেখেছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তার ব্যাপারে যুবদল নেতাকর্মীদের অনীহা রয়েছে। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বলছেন, যুবদলের এ শীর্ষস্থানীয় পদে বিতর্কীত এমন লোককে বসানো ঠিক হবে না।  তাতে দলের লাভের চেয়ে ক্ষতি হবে বেশি। তার বিরুদ্ধে বরাবরই কমিটি বানিজ্যর অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের অনেক নেতা বিদ্রোহ করেছেন কয়েকবার।  বিএনপি কার্যালয়ের সামনে টুকুর কুশপুত্তলিকা দাহ করা ছাড়াও কার্যালয় ভাঙচুরসহ বহু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে কয়েকবার। একবার নিজদলের নেতাকর্মীরা তার গাড়ি বহরে হামলা করে তাকে আহত করেছিল।

ভবিষ্যতে নিজের রাজনৈতিক পদের স্বার্থে মহানগর যুবদলের একজন নেতা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, টুকুকে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা হলে যুবদল ধ্বংস হয়ে যাবে। টুকু ছাত্রদল শেষ করে এখন যুবদলের প্রবেশের চেষ্টা করেছে। আর্থিক লেনেদেনের সুযোগ নিয়ে ছাত্রদলের কমিটি করেছে সে। বিএনপির হাইকমান্ডকে ভুল বুঝিয়ে শেষ পর্যন্ত যদি টুকু যুবদলের নেতৃত্বে আসে সংগঠন আর সংগঠন থাকবে না, দোকান হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, টুকু এরই মধ্যে বলতে শুরু করেছে যারা তার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখবে যুবদল করতে পারবেনা। এই যদি অবস্থা হয়, আর টুকু যদি নেতৃত্বে আসে তাহলে ত্যাগী ও দলের জন্য নিবেদিতরা রাজনীতি করতে পারবেনা।

কেন্দ্রীয় যুবদলের আরেক নেতা অনেকটা আক্ষেপ করে বলেন, ২৪ বছর রাজনীতি করছি। দলের পেছনে নিজের পকেট থেকে অর্থ খরচ করি, আন্দোলন করি। কিন্তু টুকুর মতো কিছু নেতা ঘাটের রাজনীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করে চলেছেন। বোঝাই যায়না তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোনো নেতা।

নেতাকর্মী জানিয়েছেন, বিএনপি গত প্রায় ৯ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকলেও বেশ ভালোই আছেন টুকু। প্রায় দুই বছর আগে উত্তরায় বিলাসবহুল একটি ফ্লাট কিনেছেন তিনি। রাজধানীর অভিজাত ধানমন্ডি এলাকায়ও রয়েছে তার আরো একটি ফ্লাট। রাজধানীর হাতিরপুলে তার আরএকে সিরিমিকের ব্যবসা ভালোই চলছে। বৃহত্তর ধানমন্ডির ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ড ব্যবসাও রয়েছে তার। বিরোধী রাজনৈতিক দলের থাকলেও ঠিকাদারী করে কামাচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। তার সবচেয়ে বড় ব্যবসা পদ বিক্রি করে টাকা কামানো। এজন্য ইউনিলিভারের শীর্ষ স্থানীয় একজন কর্মকর্তার উত্তরার বাড়িতে নিয়মিত বসেন তিনি। সেখানে বিলাসবহুল গাড়ি হাকিয়ে নেতারা আসেন পদ কেনার জন্য, দলের তদবির করানোর জন্য।

ছাত্রদলের এক নেতার ভাষ্য, সেখানে গেলে বোঝা যাবে না, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোনো নেতা। এখান থেকে ছাত্রদলের পদ বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।’ ইদানিং নিজেকে তিনি বিএনপির গডফাদার মনে করেন বলেও দাবি নেতাকর্মীদের। ওয়ারেন্ট মামলার আসামী হয়েও কিভাবে নির্বিঘে সবকিছু চালিয়ে যাচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তাদের।

তবে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা বলছেন, যুবদল পুনর্গঠনে এই ধরনের নেতৃত্ব আনা হলে তা বিএনপির ‘নিজের পায়ে কুড়াল মারা’র মতো অবস্থা হবে। তাদের মতে, ভবিষ্যতে বিএনপিকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে নিবেদিতপ্রাণ, মেধাবী, যোগ্য নেতাদের দায়িত্ব দিতে হবে। অতীতের মতো সিন্ডিকেট করে অযোগ্য ও সুযোগসন্ধানীরা যাতে শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে না পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে দলের হাইকমান্ডকে। তা না হলে ভবিষ্যৎ সরকারবিরোধী আন্দোলন আবারও মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা ওই নেতা-কর্মীদের।

তবে যুবদলের বর্তমান কমিটির নেতাদের বড় একটি অংশই চান যুবদল থেকেই নেতৃত্ব আসুক। অন্যথায় তাদের বিদ্রোহ করার শঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তারা। নেতৃত্ব ঠিক করার আগে এই বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

সুলতান সালাউদ্দিনকে নিয়ে অভিযোগ রয়েছে ছাত্রদলেও। ছাত্রদলের ইতিহাসে ৭৩৬ সদস্য বিশিষ্ট এতো বড় কমিটি আর কখনো হয়নি। বিদ্রোহীদের কমিটিতে রাখতে হবে-এই অজুহাতে বিএনপির হাইকমান্ডকে ভুল বুঝিয়ে, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর যোগসাজসে  এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান  কারাগারে থাকা অবস্থায় বর্তমানে এই কমিটি অনুমোদন করিয়ে নেন তিনি। এ নিয়ে ছাত্রদল সভাপতিও ক্ষুদ্ধ। অভিযোগ রয়েছে, এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। তাড়াহুড়ো করে কমিটি করতে গিয়ে হ য ব র ল পরিস্থিতিতে সিনিয়র জুনিয়রের ভারসাম্যও রাখা হয়নি।

লোকমুখে শোনা যায়, তিনি যে শুধু পদ নিয়ে বানিজ্য করেছেন তা-ই নয়। পদবঞ্চিতদের দেয়া আগুনে ছাত্রদল অফিস পুড়ে যাওয়ার পর সেই অফিসকে ঠিকঠাক করার জন্য মোটা অংকের টাকা হাতিয়েছেন বিভিন্ন জনের কাছ থেকে।

যুবদলের বেশ কয়েকজন নির্বাহী কমিটির নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু নেতৃত্বে আসলে ছাত্রদলের চেয়েও বড় ধরনের বিদ্রোহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যুবদলে। সেটি সামাল দেওয়া বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জই হবে। সেজন্য তারা টুকুর পরিবর্তে সংগঠনের মধ্যে থেকেই নিবেদিত একজনকে নেতৃত্বে চাচ্ছেন।

Top