You are here
Home > জাতীয় > সারাদেশে একই দিনে বজ্রপাতে ৪২ জনের মৃত্যু

সারাদেশে একই দিনে বজ্রপাতে ৪২ জনের মৃত্যু

বজ্রপাত

সারাদেশে একই দিনে বিভিন্ন সময়ে বজ্রপাতে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটা খুবই নজিরবিহীন ঘটনা এবং একই সাথে বিশ্বের পরিবর্তিত আবহাওয়ার একটা সংকেত মাত্র।

বৃহস্পতিবার দেশের ১৬ জেলায় বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে অন্তত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকায় দুই, রাজশাহীতে পাঁচ, সিরাজগঞ্জে পাঁচ, নরসিংদীতে তিন, নেত্রকোণায় দুই, বগুড়ার শেরপুরে এক, পাবনায় ছয়, নিলফামারী এক, পিরোজপুর এক, দিনাজপুর এক,গাজীপুরে দুই, হবিগঞ্জে এক, নাটোরে দুই ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চার ও কিশোরগঞ্জে চারজন মারা যান।

দিনের বিভিন্ন সময় বজ্রপাতের এসব ঘটনা ঘটে।

ঢাকা: রাজধানীর ডেমরায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহী: জেলার তিন উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে মোহনপুর, দুর্গাপুর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন।

মৃতরা হলেন, মোহনপুরে ঘাষিগ্রাম ইউনিয়নের আতা নারায়ণপুর গ্রামের রহমত আলী, হ্তাতৈড় গ্রামের আব্দুল হাকিম ও ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের সত্যন্দ্রনাথ। দুর্গাপুর উপজেলার পালসা খামারুপাড়ায় মুনসুর রহমানের স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও গোদাগাড়ী উপজেলার গুসিরা গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী লাইলী বেগম।

স্থানীয়রা জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত। বজ্রপাতে মোহনপুরে রহমত আলী, আব্দুল হাকিম ও সত্যন্দ্রনাথ ঘটনাস্থলে মারা যান।

সিরাজগঞ্জ: জেলার রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলায় বজ্রপাতে নারী ও শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, রায়গঞ্জ উপজেলার চকপুর গ্রামের নূর নবীর কন্যা নুপুর খাতুন (৮), বৈকন্ঠপুর গ্রামের দারুজ্জামানের ছেলে আব্দুল মোতালেব (৪২) ও হাসিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন (৪৫) এবং উল্লাপাড়া উপজেলার শিমলা গ্রামের আব্দুল লতিফ (৩৫) ও বেতুয়া গ্রামের গৃহবধু শাহিনুর বেগম (৩০)।

রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউপি সদস্য মাহে আলম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশু নুপুর বাড়ির পাশে ইট ভাটার কাছে খড়ি কুড়াচ্ছিল। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু। একই সময়ে বৈকন্ঠপুর গ্রামের মোতালেব মাঠে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে সেও ঘটনাস্থলেই মারা যান।

রায়গঞ্জ উপজেলার বাগবাটি ইউপি সদস্য মাহে আলম জানান, বেজগাতি গ্রামের বাসিন্দা ও রায়গঞ্জের হাসিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বজ্রপাতে নিজ মাদ্রাসার মাঠে মারা যান।

অপরদিকে উল্লাপাড়া থানার ওসি দেওয়ান কৌশিক আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে বজ্রসহ বৃষ্টির সময় উপজেলার শিমলা গ্রামের আব্দুল লতিফ ও বেতুয়া গ্রামের শাহিনুর বেগম বজ্রপাতে মারা যান।

নরসিংদী: সদর ও রায়পুরা উপজেলায় বজ্রপাতে দুই গৃহবধূসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, নরসিংদীর সদর উপজেলার মহিষাশুরা গ্রামে আব্দুল করিম (৫০), চম্পকনগর গ্রামে ফুলি বেগম (৩২) এবং রায়পুরা উপজেলার ফকিরচর গ্রামে জ্যোসনা বেগম (৩৮)।

স্থানীয়রা জানায়, দুপুর ১টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মহিষাশুরা গ্রামে আব্দুল করিম গরু আনতে মাঠে গেলে বজ্রপাতে তিনি মারা যান। একই সময় চম্পকনগর গ্রামে ফুলি বেগম জমি থেকে ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান।

নরসিংদী সদর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শীতল চৌধুরী জানান, উপজেলার ফকিরচর গ্রামে জ্যোসনা বেগম মাঠে কাজ অবস্থায় বজ্রপাতে আহত হন। পরে রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নেত্রকোণা:  জেলার কেন্দুয়া ও পূর্বধলায় উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের বগভতিপুর গ্রামের রইছ উদ্দিন (৫০) ও পূর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধোবারুহী গ্রামের রুবেল মিয়া(২৫)। বিকেলে বজ্রপাতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, কেন্দুয়া উপজেলার বগভতিপুর গ্রামের কৃষক রইছ উদ্দিন বিকেলে গ্রামের পানিডুবি বিলে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

অন্যদিকে একই সময়ে জেলার পূর্বধলার উপজেলার  ধোবারুহী গ্রামের রুবেল মিয়া মাঠ থেকে গরু আনার সময় বজ্রপাতে মারা যান।

শেরপুর (বগুড়া): উপজেলায় বজ্রপাতে আনোয়ার হোসেন (৩০) নামে একজন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন তার ভাই আরিফুল ইসলাম (২৫)। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার বেতগাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, বজ্রপাতে আনোয়ার হোসেন মারা যান। আহত হন তার ভাই আরিফুল ইসলাম। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পাবনা: জেলার চাটমোহর ও সুজানগর উপজেলায় আলাদা বজ্রপাতের ঘটনায় নানা-নাতনী সহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সন্ধ্যায় আলাদা বজ্রপাতের ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। দুই উপজেলার সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃতরা হলেন, চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের রাউতকান্দি গ্রামে আলহাজ্ব ছকির উদ্দিন (৭০) ও একই ইউনিয়নের বারকোনা গ্রামের ফজলুর রহমান (৪০), সুজানগর উপজেলার আমিনপুর থানার আহাম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণচর গ্রামের শহীদ সরদার (৫০), সোনাতলা পূর্বপাড়া গ্রামের বোয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র হীরা শেখ (১৩), একই উপজেলার রানীনগর ইউনিয়নের বাঘলপুর মধ্যপাড়া গ্রামের ময়েন প্রামানিক (৭০) ও তার নাতনী বাঘলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী শিখা খাতুন (১৩)।

গাজীপুর: জেলার কাপাসিয়া বজ্রপাতে দুইজন মারা গেছেন। তারা হলেন, সাত্তার আলী ও রুবি বেগম।

হবিগঞ্জ: জেলার বানিয়াচঙ্গ উপজেলার বজ্রপাতে মো. হাবিব নামে একজন মারা গেছেন।

নাটোর: জেলার লালপুর উপজেলা বজ্রপাতে দুইজন মারা গেছেন। তারা হলেন, মোবারক হোসেন ও আয়েশা বেগম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলায় তিনজন ও সরাইল উপজেলায় একজন বজ্রপাতে মারা যান। তারা হলেন, বাঞ্চারামপুরে শামসুল আলম, শফিকুল ইসলাম ও কবির হোসেন। সরাইলে জাহানারা বেগম।

কিশোরগঞ্জ: জেলার তিন উপজেলায় বজ্রপাতে দুই নারীসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বজ্রপাতের এসব ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন, হচ্ছেন, বাজিতপুর উপজেলার বাহেরনগর গ্রামের স্বপন মিয়া ( ২০) ও একই উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের কইকুরী গ্রামের আবু বক্করের স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৫৬), হোসেনপুর উপজেলায় আড়াইবাড়িয়া গ্রামের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্র শরীফুল ইসলাম শুভ (১৮) এবং তাড়াইল উপজেলার ইশাবশর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী মমতা বেগম (৪৫)।

Top