You are here
Home > জাতীয় > বাংলাদেশের নাট্যকলায় কাজ করা নিভৃতচারী কাজী বোরহান উদ্দীন

বাংলাদেশের নাট্যকলায় কাজ করা নিভৃতচারী কাজী বোরহান উদ্দীন

বাংলাদেশের নাট্যকলায় কাজ করা নিভৃতচারী কাজী বোরহান উদ্দীন

বাংলাদেশের নাট্যকলাকে নিয়ে কাজ করা এবং এর উন্নয়নে নিজের পুরো জীবনকে সমর্পিত করাদের মধ্যে একজন হলেন কাজী বোরহান উদ্দীন। তিনি তাঁর জীবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন এই শিল্পচর্চার পিছনে। বিনিময়ে পেয়েছেনও অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা।

নাট্যাভিনেতা, নাট্যনির্দেশক ও নাট্যসংগঠক কাজী বোরহান উদ্দীনের জন্ম ১৯৩৭ সালের ২৮ মে পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমান জেলার সাহাজদপুরে। তাঁর পিতা কাজী আব্দুর রহমান এবং মাতা মাকসুদা খাতুন। গোলাপবাগ জুনিয়র মাদ্রাসায় পথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু। এরপর জিলা স্কুলে ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি এবং সেখানে থেকে ১৯৫৪ সালে ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে ১৯৫৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৬০ সালে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

জিলা স্কুলে অধ্যায়ন কালে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ, ধারা-বর্ণনা, শিক্ষকদের রচিত নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অংশগ্রহণ করে শিক্ষক ও দর্শকবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেই থেকেই নাট্য জগতে পদার্পণ। কলেজ জীবনে ’গোড়ায় গলদ’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেন তিনি। সেই থেকেই তিনি নাট্যচর্চাকে জীবনে বিশেষ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন।

বিখ্যাত নাট্যদল ’দিনাজপুর নাট্য সমিতি’র সদস্য হওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রথমে তিনি প্রথম কোনো পেশাদারী নাট্যসংগঠনে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠা করেন ’নবরূপী’; তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। এছড়া তিনি খাজা নাজিমুদ্দিন মুসলিম হল ও পাবলিক লাইব্যেরির কার্যকরী পরিষদের সদস্য, দিনাজপুর ইনস্টিটিউটের সভাপতি এবং দিনাজপুর নাট্য সমিতির অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ধদিন দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁর নির্দেশিত নাটকের সংখ্যা প্রায় ২৫। এগুলোর মধ্যে ’ভুমিকম্পের পরে’ নাটকটি বিভিন্ন নাট্য উৎসবে বেশ কিছু পুরষ্কার লাভ করেছে। তাঁর অভিনীত নাটকের সংখ্যা অন্তত ৬৫। মুকুল ফৌজ প্রযোজিত ’বন্দী বীর’ নাটকে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দিনাজপুর নাট্য সমিতি মঞ্চে এ নাটক বহুবার মঞ্চস্থ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য অন্যান্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ’পাহাড়ীফুল’ ’যদিও সন্ধ্যা’ ইত্যাদি। পাহাড়ীফুল নাটকটি এতবেশি জনপ্রিয় হয়েছিলো যে এক নাগাড়ে ১৫/১৬ রজনী মঞ্চস্থ হয়েছিল। ’যদিও সন্ধা’ নাটকে অভিনয়ের জন্য তিনি রংপুর নাট্য উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

সম্প্রতি নাট্যকলায় বিশেষ অবদানের জন্য গুনী এ শিল্পী সম্মানিত হয়েছেন ‘শিল্পকলা পদক ২০১৫’এ। ৫ই মে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শিল্পীর হাতে ‘শিল্পকলা পদক ২০১৫’ তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সংস্কৃতি সচিব আক্তারী মমতাজ এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী।

সম্মাননাস্বরূপ রাষ্ট্রপতি তার হতে এক লাখ টাকা, স্বর্ণ পদক, উত্তরীয়, সনদপত্র এবং ফুলের তোড়া তুলে দেন।

তার প্রাপ্ত পুরস্কার, সন্মাননা ও স্বীকৃতির সংখ্যা কিন্তু কম নয়। তিনি তার নাট্যচর্চার অবদান স্বরুপ বহু সম্মাননা অর্জন করেছেন। একনজরে দেখে নিই তার সেই প্রাপ্ত পুরস্কার, সন্মাননা ও স্বীকৃতিগুলো:

১. জেলা শিল্পকলা একাডেমী সন্মাননা – নাট্যকলা– ২০১৩
২. বাংলা একাডেমী সন্মাননা স্বারক – ১০ জানুয়ারি, ২০১২
৩. Ameture theater Association-Theater Award-2004
৪. রাজশাহী বিভাগীয় নাট্যোৎসব সন্মাননা স্বারক, ২০০৪
৫.গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ও বেংগল ফাউন্ডেশন ২০০৪
৬. এসো দেশ গড়ি বিশিষ্ট গুণীজন সাদা মনের মানুষ সন্মাননা, জেলা প্রশাসক , দিনাজপুর, ২০০৪
৭. Life Time Achievement in Drametic Arts Honours by ATN- Bangla- ২০১৪
৮. বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থা সন্মাননা ২০০৩
৯. নজরুল পরিষদ কর্তৃক সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব সন্মাননা বারীবন্দর
১০. সার্ধশত জন্মবর্ষ স্বামী বিবেকানন্দ সম্মাননা পদক ১৯১৩-২০১৩
১১. সাতশত জন্মবার্ষিকী স্বামী বিবেকান্দ দাস সন্মাননা ২০০৩
১১.পথিকৃৎ সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব সন্মাননা ২০০৪
১২. দৈনিক তিস্তা সন্মাননা, দিনাজপুর , ২০০৫
১৩.দৈনিক উত্তর বাংলা সন্মাননা, দিনাজপুর , ২০০৫
১৪. রাজশাহী বিভাগীয় সম্মেলন – গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন সাংস্কৃতিক জন সন্মাননা বগুড়া

সম্মাননা কিংবা স্বীকৃতির জন্য নয়, ভালোবাসা থেকেই নাট্যকলা নিয়ে কাজ করেন বলে জানান কাজী বোরহান উদ্দীন। তবে সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান থেকে যখন স্বীকৃতি মেলে তখন তা কাজে আরও উৎসাহ যোগায় বলেও মনে করেন তিনি। আর জীবনের বাকীটা সময় নাট্যকলার উন্নয়নে ব্যয় করে যেতে চান নিভৃতচারী গুনী এ শিল্পী।

Top