You are here
Home > অবাক-বিস্ময় > দোকানদার ছাড়াই চলছে কুষ্টিয়ার এক দোকান

দোকানদার ছাড়াই চলছে কুষ্টিয়ার এক দোকান

দোকানদার ছাড়াই চলছে কুষ্টিয়ার এক দোকান

দোকান থেকে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করলেন। দাম পরিশোধ করতে গিয়ে দেখলেন দোকানদার নেই। দাম পরিশোধ কোথায় করবেন? একটি বাক্স রয়েছে সেখানে দাম পরিশোধ করে চলে যান। ভাবছেন আজগুবি ব্যাপার কি এই দেশে সম্ভব?

হ্যাঁ এটাই সম্ভব করেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালির হামিদুর রহমান। দোকানে বিভিন্ন ধরনের কাপড়, রুমাল, গামছা রয়েছে। প্রত্যকেটি জিনিসের সাথে মূল্য সংযুক্ত করা রয়েছে। কেনার পরে নির্দিষ্ট বাক্সে মূল্য দিয়ে চলে যেতে পারেন।

কেন এই পদ্ধতি অবলম্বন?

হামিদুর রহমানের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালি এলাকার লালন বাস পরিবহণের মালিকের বাড়ির পাশেই। এভাবেই জানালেন তিনি। পেশায় মূলত তিনি হকার। দোকানে বসে থাকলে হয়তো তার পরিবারের খরচ জোগাতে পারেন না। তাই তিনি রাস্তায় ফুটপাতে রুমাল বিক্রি করে বেড়ান। আর দোকান দিয়েছেন কিন্তু সেই দোকানে বসে থাকা তার পক্ষে সম্ভব না। কেন না দৈনিক সংসার চালানোর খরচ দোকান থেকে নাও উঠে আসতে পারে। তাই দোকান খুলে তিনি ফুটপাতে ঘুরে ঘুরে রুমাল বিক্রি করে বেড়ান। দোকানে লোকজন আসলে জিনিস পছন্দ হলে সেটা মূল্য তালিকা দেখে ক্রয়ে করে টাকা বাক্সে ফেলে চলে যান।

খোলা দোকানে চুরি হয় না?

হামিদুর রহমান দেড় বছর ধরে এভাবেই দোকান করছেন। দৈনিক ৩০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় হয়। দোকানের নামও দিয়েছেন বেশ ‘ভিন্নরকম দোকান’। বিস্ময়কর বিষয় হলেও সত্য দোকানের জিনিস পত্র নাকি কোনোদিন চুরি হয় নি। যেদিন যে জিনিসগুলো বিক্রি হয়েছে সেগুলোর টাকা তিনি বাক্সে পেয়েছেন। হামিদুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে ব্যবসা আমার দোকান থেকে কেউ কোনোদিন কিছু চুরি করে নি কিংবা চুরির কোনো আলামত আমি পাই নি। ব্যবসাও খারাপ না। মানুষজন নিজের ইচ্ছেমতো ক্রয় করে টাকা পরিশোধ করে যান। এভাবেই বেশ চলে যাচ্ছে।’

Top