You are here
Home > জাতীয় > আড়াই হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে গেছে, উৎস কী: খালেদা জিয়া

আড়াই হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে গেছে, উৎস কী: খালেদা জিয়া

আড়াই হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে গেছে, উৎস কী: খালেদা জিয়া

সারা দেশের অব্যাহত গুম-খুনের দায় সরকারের। সরকার দেশের জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে সংকট নিরসনে আলোচনায় আসার আহবান জানিয়েছেন ২০ দলীয় জোটনেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে একটি মামলার রায় নিয়ে এখন আমাদের দেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কি সে মামলা? এফবিআইয়ের একজন এজেন্টকে ঘুষ দিয়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশী তরুণ বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের ব্যাপারে কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিলো। সেই মামলার নথিতেই আছে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের একটি একাউন্টেই আড়াই হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ তিনশো মিলিয়ন ডলার জমা আছে।

“এই টাকা কোথা থেকে গেছে? এই টাকার উৎস কী? এভাবে তাদের আরো কতো টাকা আছে, বাংলাদেশের মানুষ তা জানতে চায়? বাংলাদেশের মানুষ মনে করে এই টাকা বাংলাদেশের জনগণের টাকা। এভাবে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে অর্জিত বিপুল টাকা বিদেশে পাচার করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছে।”

এ নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিৎ দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ওই টাকা ফিরিয়ে আনা দরকার। কিন্তু এই টাকার ব্যাপারে সরকার নিরব। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার এই টাকার কথা ধামাচাপা দিতে প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতা করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছে। কেবল তাই নয়, কারারুদ্ধ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকেও ওই মামলায় জড়িয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মিথ্যা প্রচারণা, অত্যাচার, নানা ইস্যু সৃষ্টি করে সরকার তাদের অপরাধ আড়াল করছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন মানুষ খুন হচ্ছে। নারী ও শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। গত তিন মাসে পত্রিকার হিসাবে দেড় হাজার লোক খুন হয়ে গেছে। দুর্নীতি লুটপাট করে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে দেশ চলতে পারে না। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। আইনের শাসন ও সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। জুলুম ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। দেশে শান্তি ও নাগরিকদের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে হবে। সেজন্য যে সেখানে আছেন, সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করতে হবে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘সরকার কাউকে কোনো নিরাপত্তা দিয়ে পারছেনা। তবুও দাবি করছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক। যা কিছু ঘটছে তা সব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। অথচ দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন খুন হচ্ছে। গুপ্তহত্যা ও অতর্কিতে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে’

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘এইভাবে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যাবেনা। সেজন্য দেশের অভ্যন্তরে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিরসন করুন। সময় দ্রুত বয়ে যাচ্ছে।’

দেশের জঙ্গিবাদের উত্থান প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশে প্রথম জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছিল। ওই সময়ে প্রকৃত সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের আড়াল করে আওয়ামী লীগ দায় চাপিয়েছিল বিএনপি ও বিরোধী দলের ওপর। বিএনপি ক্ষমতায় এসে জঙ্গিবাদী তৎপরতাকে কঠোর হস্তে দমন করেছিল। জঙ্গি নেতাদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা হয়েছিলো। আজ আবার সেই জঙ্গিবাদের উত্থানের আলামত দেখে আমরা দেশবাসীর সঙ্গে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বর্তমান সরকার এর দায় এড়াতে পারে না। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি ও আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে রুদ্ধ করে দিয়ে তারাই (সরকার) দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের পথ করে দিচ্ছে বলে আমরা মনে করি।’

‘পথের বাধা সরিয়ে দাও’ শিরোনামে এই কনভেনশনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জাগপার কাউন্সিলররা ও নেতাকর্মী অংশ নেন।

Top