You are here
Home > জাতীয় > ‘জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা বন্ধ করুন’

‘জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা বন্ধ করুন’

‘জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা বন্ধ করুন’

সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন আপনারা জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা বন্ধ করুন। কারন আপনাদের মন্ত্রী ও নেতাদের কথাবার্তাতেই স্পষ্ট হয় যে, জঙ্গীরা আপনাদের দ্বারাই প্রশ্রয় লাভ করছে। তিনি বলেন, বিএনপি কখনোই হত্যা-সন্ত্রাস-খুনের রাজনীতি করে না, আমাদের আমলে গ্রেফতারকৃত জঙ্গীদের জামিনে মুক্ত করে দিয়েছে ও তাদের ১৫৬টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি রিজভী আহমেদ বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবন রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের। “আমরা দায় নেব না” বলে এই দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। বিএনপি’র নেতা-কর্মীদেও দোষারোপ না করে; মিথ্যা অপবাদ না দিয়ে প্রকৃত জঙ্গীদের খুঁজে বের করুন, তাদের বিচারের আওতায় আনুন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন।

সম্প্রতি দেশে অব্যাহত খুন নিয়ে সরকারের বক্তব্য ও কর্মকান্ডের জবাব দিতে শুক্রবার বেলা সোয়া এগারটার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ আহবান জানান।

রিজভী আহমেদ বলেন, কয়েক দিন পূর্বে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু  বলেছেন, লাদেনের প্রশিক্ষিত ৮০০০ জঙ্গী বাংলাদেশে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের দাবি বিএনপিকে দোষারোপ না করে হাসানুল হক ইনুর নিকট জানতে চান যে, জঙ্গীরা কোথায় আছে। কারন ইনুই জানেন জঙ্গীদের হদিস কোথায় আছে। জঙ্গী হামলার পর আপনাদের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া জঙ্গীদের আড়াল করতে বিএনপিকে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কোন লাভ হবে না, কারণ জনগণ তা বিশ্বাস করে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তি এবং অবহেলার কারনে দেশে ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশ আজ অগ্নিগর্ভ। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে বিপন্ন করার এক হিংস্র চক্রান্ত চলছে। দেশের সার্বভৌমত্ব এখন চরমভাবে হুমকির মুখে। ভোটারবিহীন সরকার দেশের মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা হরণ করে গোটা জাতিকেই নিজেদের উপনিবেশ বানিয়ে ছেড়েছেন। জঙ্গীবাদ তার পশু প্রবৃত্তি নিয়ে দেশে প্রবল আধিপত্য বিস্তার করেছে।

বাংলাদেশ জঙ্গী দমনে সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং সফল সরকার বিএনপি এমন মন্তব্য করে বিজভী বলেন, বিএনপি মানবতা, সভ্যতা বিরোধী যেকোন ধ্বংসাত্মক জঙ্গী কর্মকান্ডকে দমন করতে অতীতের অভিজ্ঞতা দিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত। দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে শান্তি, স্বস্তি, মানুষ ও রাষ্ট্রের  নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র বিরোধী প্রাণবিনাশী জঙ্গী শক্তিকে দমন করতে সর্বশক্তি নিয়ে এগিয়ে আসতে আহবান জানাচ্ছে বিএনপি।

সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জুলহাস মান্নান এবং তার বন্ধু মাহবুব তনয়, দুই বিদেশী নাগরিক তাভেল্লা সিজার এবং হোসি কুনিও হত্যা নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার পর সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা পর্যন্ত আততায়ীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে বিচারের আওতায় না এনে এবং তাদেরকে আড়াল করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিএনপিকে দোষারোপ করছে। যদিও এই হত্যাগুলোর দায় স্বীকার করেছে দুইটি জঙ্গী সংগঠন। সরকার মূল জঙ্গীদের আড়াল করার জন্যই বিএনপি নেতাদের ওপর বারবার এইসব জঙ্গী হামলার দায় চাপিয়ে যাচ্ছে। অথচ আলোচিত এসব হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন ক্লু বের করতে পারেনি সরকার।

বিএনপি কখনোই হত্যা-সন্ত্রাস-খুনের রাজনীতি করে না বলে উল্লেখ্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর আত্মীয়ের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত জেএমবিকে বিএনপি আমলেই নির্মূল করা হয়েছিল। অন্যদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি আমলে গ্রেফতারকৃত জঙ্গীদের বিভিন্নভাবে জেল থেকে পালিয়ে যায়, এতে কারা সহায়তা করেছে তা জনগণে অগোচরে নেই, জামিনে মুক্ত করে দিয়েছে এবং বিএনপি আমলে হরকাতুল জিহাদ ও জেএমবি’র জঙ্গীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৫৬টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানা উল্লা মিয়া, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জাসাসের সভাপতি আব্দুল মালেক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মাহবুবুল হক নান্নু, ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সেলিনা সুলতানা নিশীতা, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আফরোজা খানম নাসরিন যুবদলের কেন্দ্রীয় সদস্য গিয়াস উদ্দিন মামুনসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।

Top