You are here
Home > জাতীয় > ‘আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়ায় দেশ এখন মৃত্যুপুরী’

‘আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়ায় দেশ এখন মৃত্যুপুরী’

‘আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়ায় দেশ এখন মৃত্যুপুরীতে

প্রথম ও দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের ন্যায় তৃতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর দেশ জুড়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তান্ডব চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ অভিযোগ করেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, গুলি, বোমা বিস্ফোরণ, কেন্দ্র দখল করে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা লাইন ধরে নৌকা প্রতীকে সীল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোটের মধ্য দিয়ে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন শেষ হয়েছে। এখন দেশজুড়ে চলছে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র তান্ডব।

তিনি বলেন, সারাদেশেই এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চলছে। গত শনিবার দেশব্যাপী ৪৮ জেলার ৬১৪টি ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় সহিংস সংঘাত ও আইনশৃংখলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে আরো ৫ জন। অর্ধশতাধিক লোক গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

বিএনপি এই নেতা বলেন, আগের দু’বারের মতো প্রাণহানির ঘটনা ঘটার মধ্য দিয়ে তৃতীয় দফার নির্বাচনেও বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া, ভোটারদের ভোট প্রদানে বাধা, অস্ত্রের মহড়া, হামলা ও নিরুপায় হয়ে প্রার্থীদের ভোট বর্জনের চিত্র ছিল একই। জাল ভোট প্রদান ও অনিয়মের অভিযোগে ক্ষমতাসীন দলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় অনেকের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। অনিয়মের আশ্রয় নেয়ায় এক প্রিজাইডিং অফিসারকে গ্রেফতার এবং দুই সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে আটক করা হয়।

অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ভোটের দিন সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক কেন্দ্রে ভোট শুরু হয়ে যায় আগের রাতে। র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে সীল মারে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীরা। নির্বাচনে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি এমনকি কোন কোন স্থানে নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেটরাও নৌকা প্রতীকে সীল মারতে সহায়তা করে। বিএনপি ও বিরোধী দলের এজেন্টদের বের করে দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের কেউ যেন কেন্দ্রের ধারে কাছে আসতে পারে সেজন্য র‌্যাব, পুলিশ বিজিবি ছিল সদা তৎপর।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হতে বলেছেন। নির্বাচন কমিশনও প্রধানমন্ত্রীর কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। আগে ভোট ডাকাতি করতো আওয়ামী সন্ত্রাসী ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা। আর এবার প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হওয়ার নির্দেশের পর আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও ভোট ডাকাতিতে অংশগ্রহন করেছেন। ভোটাররা ভোট দেয়ার জন্য কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে কাঁদে, ভোট দেয় সন্ত্রাসী ও নির্বাচনী দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। হায় সেলুকাস, কী চরিত্র এই দেশের বর্তমান শাসকদের।

সারাদেশে খুনের মহৌৎসব চলছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, দেশজুড়ে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের তান্ডবের পাশাপাশি গুম, খুন, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যা, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খালে-বিলে-ডোবা-নালায় মিলছে মানুষের লাশ। নারী ও শিশুদের নির্যাতনের পর হত্যা করা হচ্ছে। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ায় দেশ এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশ গোল্লায় যাক, মানুষের প্রাণ যাক, ক্ষমতার মসনদ রক্ষাই যেন এখন ভোটারবিহীন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হয়ে গেছে।

সেদিন আর খুব দুরে নয়-ভোটারবিহীন সরকার ও তাদের পালিত নির্বাচন কমিশন মিলে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বিভিন্ন সেক্টরকে ধ্বংস করে দেয়ার জবাব এই দেশের জনগণকে দিবে। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে গ্রাম থেকেই প্রতিবাদী মানুষ এখন জেগে উঠছে। শিগ্গিরই এই দু:শাসনের অবসান ঘটবে, অবৈধ সরকারের পতন নিশ্চিত হবে বলে জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজদ, যুব দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজ্জামেল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগাম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিনা সুলতানা নিশিতা, সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আফরোজা খানম নাসরিন সহ-ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক রাহেলা হক রঞ্জু প্রমুখ।

Top