You are here
Home > জাতীয় > বিচারক অপসারণের আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বিচারক অপসারণের আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বিচারক অপসারণের আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

সংসদে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত আইনের খসড়ায় নীতিগত অনমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সচিবালেয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান।

এই আইনে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।পাশাপাশি অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণ হলে অভিযোগকারীকে দু’বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বিচারপতি অপসারণের বিস্তারিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে কথা বলেন।

সচিব বলেন, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে বিচারপতিদের অপসারণ করার ক্ষমতা সংসদের হাতেই ছিল। ১৯৭৫ সালের পর সংবিধানের সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদের হাত থেকে ক্ষমতা নিয়ে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল পদ্ধতি চালু করা হয়। পরে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ষোড়শ সংশোধনীতে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের সেই বিধান রোহিত করা হয়। একইসঙ্গে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের অপসারণ করার বিধান চালু করা হয়।

আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে যে কেউ সুনির্দিষ্ট কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অসামর্থ্যের অভিযোগ আনতে পারবেন। সংক্ষুব্ধ ওই ব্যক্তির অভিযোগ প্রাথমিক বিবেচনার জন্য স্পিকার ১০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে গঠিত কমিটির কাছে পাঠাবেন।

সংসদ সদস্যদের ওই কমিটি যদি মনে করেন যে, প্রাথমিকভাবে অভিযোগটির সত্যতা রয়েছে, তবে তারা স্পিকারকে লিখিতভাবে জানাবে। কমিটির প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর স্পিকার সংসদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করবেন। সংসদ যদি মনে করে ওই অভিযোগ তদন্ত করা প্রয়োজন,তাহলে তা তদন্ত কমিটির কাছে পাঠাবে। অভিযুক্ত বিচারক আত্মপক্ষ সমর্থন করে কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত বক্তব্য রাখতে পারবেন বলেও খসড়ায় বলা হয়েছে।

কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কমিটির তদন্তে প্রমাণিত হলে ওই বিচারককে সংসদে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য দেয়ার বিধান খসড়া আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে।

এরপর সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি ওই বিচারকের অসামর্থ্য বা অসদাচরণের জন্য অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন,তবে ওই প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতি তাকে অপসারণ করবেন। আর কমিটির তদন্তে যদি অভিযুক্ত বিচারক নির্দোষ প্রমাণিত হন সেক্ষেত্রে প্রতিবেদন দিয়ে স্পিকারকে জানানো হবে। স্পিকার তা সংসদে উপস্থাপন করবেন। অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে খসড়ায়।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলেও পরে তা বাতিল করা হয়। ২০১৪ সালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারক অপসারণের ওই ক্ষমতা আবার জাতীয় সংসদের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই সময় বিচারপতিদের অপসারণের পদ্ধতি নিয়ে তিন মাসের মধ্যে একটি আইন প্রণয়নের কথা বলেছিলেন আইনমন্ত্রী। কিন্তু এর পরপরই ষোড়শ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হয়। ফলে প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই আইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়নি।

সম্প্রতি আইনের খসড়ার কাজ শেষ হয়। এখন এটি অনুমোদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত,সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতার প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে আগামী ৫মে রায়ের জন্য ধার্য রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে,খসড়া আইনে বিচারপতিদের অসদাচরণ ও অসামর্থ্যের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে-অসদাচরণ অর্থ কোনো বিচারক কর্তৃক ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে বিচার পরিচালনা বা রায় দেয়া,পদমর্যাদা বা কার্যালয়ের অপব্যবহার করে আর্থিক, বস্তুগত কিংবা অন্য কোনো সুবিধা নেয়া,নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ,বিচার কাজে প্রভাবিত হওয়া বা অন্যকে প্রভাবিত করা।

এছাড়াও বিচারিক কর্তব্য পালনে ব্যর্থতা, জীবন বৃত্তান্তে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রাসঙ্গিক কোনো তথ্য গোপন করলেও অপসারণের উদ্যোগ নেয়া যাবে।এতে অসামর্থ্য বলতে কোনো বিচারকের স্থায়ী শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যতাকে উল্লেখ করা হয়েছে।

Top