You are here
Home > বিনোদন > যে কারণে মুক্তি পেলো না ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্র

যে কারণে মুক্তি পেলো না ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্র

যে কারণে মুক্তি পেলো না ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্র

‘রানা প্লাজা’র মতো ভয়াল ট্র্যাজেডির কথা জনগণের যেনো মনে না থাকে সে কারণেই ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্রটিকে মুক্তি দিতে দেওয়া হয়নি বলে সিনেমাটির পরিচালক নজরুল ইসলাম খান দাবি করেছেন। আর রেশমা চরিত্রে অভিনয় করা পরীমনি বলেছেন, যারা সিনেমাটিকে ভয়ংকর বলছেন, তারা আসলে ওই শব্দের অর্থ জানেন না।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ছবিটি উচ্চ মহলের জন্য মুক্তি পায়নি। কিন্তু, আমি আশাবাদী শিগগিরই সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে ছবিটি সারাদেশে মুক্তি পাবে।

বাংলাদেশের সিনেমা জগতে ‘রানা প্লাজা’ই প্রথম চলচ্চিত্র যা মুক্তি পাওয়ার আগেরদিন ছয় মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। ছয়মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মুক্তি পায়নি আলোচিত এ ছবি।

‘রানা প্লাজা’ সিনেমাটির ভবিষ্যত সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলেন, ছবিটির ওপর নিষেধাজ্ঞার পর বিজিএমইএ-বিকেএমইএ’র সঙ্গে কথা বলেছি, তাদেরকে ছবিটি দেখেয়েছি। তারা আমাকে এমন যুক্তি দেখালেন যা মেনে নেওয়া খুব কষ্টকর।

তিনি বলেন: এরপর সংশ্লিষ্ট সচিবদেরকে ছবিটি দেখাই। কিন্তু তাদের একটিই বক্তব্য, রানা প্লাজার ঘটনা আমরা জনগণকে আর মনে করাতে চাই না। যা ভুলে গেছে তা আবার জেগে উঠুক তা চাই না।

‘আমি উনাদের বোঝাতে ব্যর্থ হই যে এ ছবিতে শুধু “রানা প্লাজা” সেই ঘটনার ২১ মিনিটের ভিডিও ফুটেজ ছাড়া আর কিছুই নেই। বাদবাকি যা আছে তা হলো গার্মেন্টকর্মী ও মালিকদের সচেতন করার বার্তা। তাই আজ কষ্টের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, এদেশে ভালো কিছু করা যায় না। আর ভালো কিছু করতে গেলে আমার মতো ফকির হতে হবে।’

পরিচালক বলেন, ছবিটি যখন আমি নির্মাণ করেছিলাম তখন পুরো টিম থেকে শুরু করে অভিনেতা সায়মন ও অভিনেত্রী পরীমনিকে সমস্ত টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। মুক্তির আগে ১০০টি হলে বুকিং দিতে হয়েছে, প্রোমো, পোস্টার সবকিছুই করতে হয়েছে কিন্তু, একদিন আগে আমি জানতে পারলাম ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে না। সেই মুহূর্তেই ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হলাম।

‘আমার মনে শুধু একটি প্রশ্নই বারবার ঘুরপাক খায়: সেন্সর বোর্ড পেরিয়ে আসা ছবিটিকে কেনো মুক্তি দিতে বাধা দেওয়া হলো? তার কারণ যে ছবিটির নাম ‘রানা প্লাজা,’ বলে মন্তব্য করেন পরিচালক নজরুল ইসলাম খান।

তাহলে মুক্তির জন্য ছবির নাম পরিবর্তন করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশ্নই উঠে না। ছবির নাম ‘রানা প্লাজা’ই থাকবে। ‘রানা প্লাজা’র মতো এমন ভয়াল ট্র্যাজেডির ঘটনা বাংলাদেশে কখনো ঘটেনি। তাহলে আমি কেনো অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম দেবো!’

‘আর দেখুন বাইরের দেশে ওরা নিজের দেশের অসংগতির ওপর সিনেমা নির্মাণ করে। সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে। কিন্তু, আমাদের দেশে উল্টো। দেশের জন্য ভালো কিছু করতে গেলে নিজের সবকিছু হারাতে হয়।’

অলৌকিকভাবে জীবন পাওয়া রেশমা চরিত্রে অভিনয় করা পরীমনি বলেন, এ ছবিতে কোনো ভয়ংকর দৃশ্য ছিলো না। যারা ভয়ংকর বলছেন তারা আসলে ভয়ংকর শব্দটির অর্থই জানেন না।

‘রানা প্লাজা ছবিটি মূলতঃ শ্রমিকদের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিলো।’

‘ছুটির ঘণ্টা চলচ্চিত্র দেখে সমাজে যেভাবে জনসচেতনতা বেড়েছিলো তেমনি রানা প্লাজা মুক্তি পেলে জনসচেনতা বাড়তো। আসলে রানা প্লাজা শুধু আমার বা আমাদের ছবি নয়, এটি সারা বাংলাদেশের ছবি,’ বলে মন্তব্য করেন পরীমনি।

ভয়াল এক ট্র্যাজেডির জন্ম দেওয়া সাভারের রানা প্লাজার ধসের ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তুপ থেকে পোশাককর্মী রেশমার উদ্ধারের কাহিনী অবলম্বনে নির্মাণ হয়েছে সিনেমা ‘রানা প্লাজা’।

মুক্তির আগেই অনেক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয় এই ছবি।

উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় প্রায় ১১ শত ৩৫ জন নিহত আর আহত হয় প্রায় ২০০০ মানুষ। ধংসস্তুপ থেকে উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪৩৮ জনকে।

Top