You are here
Home > জাতীয় > নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, অনিয়ম শূন্য শতাংশ দাবি আ. লীগের

নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, অনিয়ম শূন্য শতাংশ দাবি আ. লীগের

আওয়ামী লীগ

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার ফলে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ।

ক্ষমতাসীন দলটি বলেছে, ভোটগ্রহণকালে কেবল দুই তিনটি জায়গায় ছোট-খাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে দুই-তিনটির ঘটনা একেবারেই শূন্য শতাংশ।

শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এ কথা বলেন।

বিকেলে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে দলীয় প্রতিক্রিয়া তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

হানিফ বলেন, ‘তৃতীয় ধাপে ৬১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোট ৫ হাজার ৫২৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত সার্বিকভাবে দেশে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। দলের পক্ষে কঠোরভাবে শৃংখলা রক্ষার নির্দেশনা এবং প্রধানমন্ত্রীর শক্ত অবস্থানের কারণে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। আগামীতেও সব নির্বাচন একইভাবে হবে।’

ইউপি নির্বাচনে বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস ও অর্থনৈতিক অবস্থা পিছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এখন সুপরিকল্পিতভাবে ইউপি নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনে তারা বাছাই করেই দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার হতাশায় পরবর্তী ধাপের নির্বাচনকে তারা ষড়যন্ত্রের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ কারণে পরের ধাপের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রার্থী বাছাইয়ের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি,দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রেও কোনো আগ্রহ দেখায়নি।’

হানিফ বলেন, ‘যেসব এলাকায় আওয়ামী লীগের একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে এবং তাদের মধ্যে যিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি- বিএনপি তাদের ওপর ভর করে ও উসকানি দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এদের ওপর ভর করেই বিএনপি গোলযোগ সৃষ্টি করে নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্তআছে। যার কারণে গত দুই ধাপের নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা কিছুটা লক্ষ্য করা গেছে। অর্থাৎ ইউপি নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে বিএনপি আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উস্কানি দেওয়ার ফলে সহিংসতা কিংবা গোলযোগ বেশি হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘তবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বিতর্কিত করতে বিএনপি-জামায়াতের এ অশুভ চক্রান্ত নস্যাৎ হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের সব চক্রান্ত প্রতিরোধ করেই আমরা নির্বাচনব্যবস্থা এগিয়ে নিতে পারব। জনগণও তাদের রায়ের প্রতিফলন ঘটাবে। বিগত সময়ে আজিজ মার্কা ইসিকে ঘিরে দেশ-বিদেশে সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছিলে। ফলে ইসির মানুষের আস্থা উঠে গিয়েছিল। কিন্তু এখন ইসি সেই জায়গা থেকে ধীরে ধীরে উন্নয়ন করে জনগণের আস্থায় পরিণত হচ্ছে। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেভাবে দেশের অন্যান্য স্বায়ত্তশায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও ভালভাবে এগিয়ে যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দীপু মনি, আহমদ হোসেন, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, আফজাল হোসেন, আবদুস সোবহান গোলাপ, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল  ইসলাম আমিন, এসএম কামাল হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম প্রমুখ।

Top