You are here
Home > সারাদেশ > অমানবিক নির্যাতের চিহ্ন নিয়েই পালালো শিশুটি

অমানবিক নির্যাতের চিহ্ন নিয়েই পালালো শিশুটি

অমানবিক নির্যাতের চিহ্ন নিয়েই পালালো শিশুটি

নিষিদ্ধ হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন থামছে না। শিক্ষকদের বর্বর নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। যশোরে হাফেজি শিক্ষায় বাধ্য করতে আবুজার নামে ১০ বছরের এক শিশুর পায়ে শেকলের এক প্রান্ত বেঁধে অন্য প্রান্তে ভারী কাঠ ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। গত রোববার রাতে শিশুটি পায়ে শেকল বাঁধা কাঠ নিয়েই পালিয়ে মাগুরা চলে আসে। এদিকে ফরিদপুরের মধুখালী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আকবরের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের নবম শেণীর ছাত্র আরাফাত ইমতিয়াজ অথিকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে এক সপ্তাহ চিকিৎসা নিয়েছে ওই শিক্ষার্থী।

যশোর সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর দড়িয়াকুড়ে মাদ্রাসায় নির্যাতনের শিকার হয় আবুজার। সে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ইন্দ্রা গ্রামের আবদুল আলিমের ছেলে।

আবুজার জানায়, হাফেজি শিক্ষার জন্য তার বাবা তিন বছর আগে তাকে ওই মাদ্রাসায় দিয়ে আসেন। কিছুদিন পর থেকেই মাদ্রাসার হুজুর জাহাঙ্গীর তাকে মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করেন। নির্যাতন সইতে না পেরে সে আগে একাধিকবার মাদ্রাসা থেকে পালায়। এ কারণে প্রায় চার মাস আগে শিক্ষক জাহাঙ্গীর তার পায়ে মোটা শেকল বেঁধে তালা দিয়ে ১০ কেজি ওজনের একটি ভারী কাঠ ঝুলিয়ে দেন। এ অবস্থায় এতদিন ওই মাদ্রাসায় অস্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল আবুজার। রোববার বিকেলে সে শরীরের কাপড় ও গামছার মধ্যে কাঠ ও শেকল লুকিয়ে মাদ্রাসা থেকে পালায় এবং রাতে মাগুরা-যশোর সড়কে এসে বাসে ওঠে। রাতে মাগুরা শহরের ভায়না মোড়ে বাস থেকে নামার পর স্থানীয়রা তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। আবুজারের অভিযোগ, তাকে নির্যাতনে তার বাবা আলিমের সম্মতি ছিল।

মাগুরা সদর থানার ওসি আজমল হুদা জানান, রোববার রাত ১২টার দিকে পায়ে তালা দিয়ে শেকল ও ভারী কাঠ ঝোলানো অবস্থায় আবুজারকে উদ্ধার করা হয়। সোমবার বিকেলে তাকে তার বাবার সঙ্গে বাঘারপাড়া থানা পুলিশের হেফাজতে পাঠানো হয়। বাঘারপাড়া পুলিশ আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

এ ব্যাপারে অবুজারের বাবা আবদুল আলিম মোবাইল ফোনে জানান, মাদ্রাসা থেকে যাতে পালাতে না পারে সে জন্য পায়ে শেকল বেঁধে তালা ও কাঠ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখছি ভুল হয়েছে।

এদিকে ফরিদপুরের মধুখালী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র আরাফাত ইমতিয়াজ অথিকে গত ৯ এপ্রিল দুপুরে আধঘণ্টা ধরে পিটিয়ে আহত করেন প্রধান শিক্ষক আলী আকবর। বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা অথির মা আসমা সুলতানা এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো লিখিত অভিযোগে বলেন, প্রধান শিক্ষক আলী আকবর অথির বুকে পা দিয়ে লাথি দেন এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে মেহগনি গাছের ডাল দিয়ে তাকে ১৫ মিনিট ধরে নির্দয়ভাবে পেটান ওই শিক্ষক। অথির পা থেকে কোমর পর্যন্ত পিটিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়। নির্যাতনের এ ঘটনা কাউকে না বলতে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেন আসমা খাতুন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মধুখালী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অথিকে তুচ্ছ কারণে পেটানো হয়। এর আগেও প্রধান শিক্ষক ছাত্রদের পিটিয়েছেন বলে জানান তারা।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আলী আকবর শিক্ষার্থী অথিকে পেটানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অথি আরেক ছাত্রকে মেরেছিল। তাই তাকে শাসন করার জন্য আমার কক্ষে আসতে বলি। কিন্তু সে আসতে না চাওয়ায় টেনে আনার চেষ্টা করি। এ সময় ধস্তাধস্তি হলে অথির শরীরের কোথাও আঘাত লাগতে পারে।

এ ব্যাপারে মধুখালী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন,’ ছেলেটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। তবে তার অনুলিপি এখনও আমি পাইনি।’ তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মারধর করা সরকারি বিধির পরিপন্থী। এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার এ বিষয়ে জানান, অভিযোগ পেয়ে তিনি ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন। দু’পক্ষকে ডেকে একটি শুনানিও হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ও নির্যাতনের শিকার ছাত্র উভয়েরই দোষ পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

Top