You are here
Home > জাতীয় > খালেদার আবেদন খারিজ, পরবর্তী শুনানি ২৫ এপ্রিল

খালেদার আবেদন খারিজ, পরবর্তী শুনানি ২৫ এপ্রিল

খালেদার আবেদন খারিজ, পরবর্তী শুনানি ২৫ এপ্রিল

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে করা তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় সাক্ষ্য নেওয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

১৭ই এপ্রিল রোববার ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য ছিল।

এর আগে সকালে আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়া। প্রথমে আদালতে তাঁর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তা নাকচ করে দেন। এখন খালেদার আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তাকে আবারও জেরা করার আবেদন করেছেন।

এ সময় খালেদার আইনজীবীরা খারিজের এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করবেন বলে জানিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন পেছানোর আবেদন জানান। এর প্রেক্ষিতে ২৫ এপ্রিল দিন পুনর্নির্ধারণ করেন আদালত।

খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে আরও ছিলেন তার আইনজীবী অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াসহ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।

এর আগে সকাল নয়টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন খালেদা। সকাল সাড়ে দশটায় আদালত চত্বরে এসে পৌঁছান তিনি। পরে এজলাসকক্ষে ঢোকেন। দশটা ৩৫ মিনিট থেকে দশ মিনিট আসামির কাঠগড়ার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। দশটা ৪৫ মিনিট বিচারক এজলাসে বসার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া তার বসার অনুমতি প্রার্থনা করেন। আদালত অনুমতি দিলে কাঠগড়ার সামনে রাখা তার জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসেন খালেদা।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।

জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।

ওই মামলার অপর আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এর আগে ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি ও অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে ৫ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন তিনি।

গত বছরের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ও অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

Top